একজন আফিয়া ছিদ্ধিকী ও আমরা ক’জন ভীতু

ভয় অত্যন্ত স্বভাবিক একটা মানবিক আচরণ । যারা ভয় পায়না, হয় তারা পাগল নয়তো অতিমানব । ভীতির মাত্রা ব্যক্তিবিশেষে কম বেশি হবে, ভীতির কারণও অনেকের কাছে ভিন্ন ।যখন ছোট ছিলাম তখন থেকে খুবই ভীতু ছিলাম । বড় হওয়ার সাথে সাথে অনেক ছেলেমানুষি ভয় দুর হতে শুরু করলো ।একটা সময় এমন চলে আসলো যখন রাত তিনটার পরে জ্বীন দেখার জন্য বড়ির ছাদে , মাঠে কাটিয়েছি । এরকম আরো অনেক পাগলাটে কাজ চলতে থাকলো আর নিজের মধ্যে ধীরে ধীরে একটা আত্মবিশ্বাস জন্ম নিল। পৃথিবীর কোনকিছুকে আর তেমন পাত্তা দিতে ইচ্ছা করতো না। নিজেকে দুঃসাহসী মনে না করলেও সাহসী মনে করতে কসুর করতাম না । ফলাফল অনিয়ন্ত্রিত জীবন পদ্ধতি , কোন যুক্তিকেই পাত্তা না দেয়া। সবকিছুতেই – বেশি  জানি বেশি জানি ভাব।
এই জীবনের কোন একটি পথচলার বাকে হয়তো কোন এক গোধুলি বেলায় সাগরপাড়ে অথবা সুবহে সাদিকের সময় নদীপাড়ে কাটানো সময়গুলোতে মাঝে মাঝে নিজেকে বেশ শূণ্য অনুভব করতাম । ঠিক বুঝতাম না আসলে আমার মনে ঠিক কি চলতো ? এটা এমন এক অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করতে গেলে মুখের বত্রিশটা দাত আবার গজাতে হবে , অন্তরের সকল বেদনা উজাড় করে দিতে হবে , হৃদয়ের সব আশা ভেঙ্গে দিতে হবে । তারপর , হয়তো এই অনুভূতি বুঝানো যাবে। কিন্তু সেই রকম একটি পরিস্থিতিতে প্রথম যেদিন ভয় কি বুঝতে পারলাম তখন ঠিক একটা ধাক্কা খেলাম। মনে হলো এতোদিনের বানানো পৃথিবীটা কেমন বেখাপ্পা লাগছে, চারিদিকে শুধু অন্ধকার, চোখে +.25 ফোকাল ডিস্টেন্সের চশমা থাকলেও প্রত্যেক চেনা পথ , প্রত্যেক চেনা মতামত ধুয়াশা মনে হলো । পৃথিবীর প্রত্যেকটি জীবন্ত স্বত্তা যেনো চিৎকার করে করে আমাকে আরো ভয় লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো্ । আমার সমস্ত অনুভূতি তখন আমাকে একটা কথায় শুনাচ্ছিলো । “আমি সারা বিশ্বের জনসংখার এক পঞ্চমাংশ জনসংখার মুসলিমদের বোন…আমি তোমাদের জন্য বোন হওয়ার যে মর্যাদা তার রদ চাই…আমি কোনো পাকিস্তানি হতে চাই না.. তোমরা কেউ আরব, কেউ ইরানী, কেউ ফিলিস্তীনি কেউ আফ্রিকান, কেউ পাকিস্তানি, কেউ বাংলাদেশী, কেউ আফ্রিকান, কেউ মালোয়শিয়ান কেউ ইন্দোনেশিয়ান, কেউ দক্ষিন এশীয় হতে পারো, তবে তোমরা কেউ মুসলিম নও”
    সত্যিই তো আমরা আর কিচু হতে পারি কিন্তু  ‍মুসলমান হতে পারিনি। আমাদের চোখের সামনেই অসংখ্য মজলুম পড়ে আছে, কই আমাদের তো কোন ভাবান্তর হচ্ছে নাআমাদের হৃদয় আছে, কিন্তু সেটা এখন আর গলে না। আমাদের বিবেক আছে , কিন্তু সেটা আর এখন আমাদেরকে ভাবায় না। কোরআনের আয়াতগুলো এখন আর আমাদেরকে সাহাবাদের মতো তাড়িত করে না, পেরেশান করে না। আমাদের হৃদয় পাথর হয়ে গিয়েছে, যদি কিছু পাথর আছে যা ফেটে যায়, ‍কিছু পাথর আছে যা পানি নিঃসরণ করে আর কিছু পাথর আছে যা ধসে পড়ে। কিন্তু আমাদের হৃদয়ের কোন পরিবর্তন নেই। আমাদের বিবেক বরফের মতো হয়ে গিয়েছে। কোরআন আমাদেরকে বারবার আহ্বান করেছে, কিন্তু আমরা শুনিনি। “তোমাদের কি হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করছো না, অথচ অসহায় অবস্থায় পতিত কত পুরুষ, নারী এবং শিশু রয়েছে যারা চিৎকার করে (কাঁদছে) বলছে, “ও প্রতিপালক, আমাদের এই জনপদ থেকে উদ্ধার করুন কারণ এখানকার অধিবাসীরা জালিম। এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একজন অভিভাবক পাঠান ও একজন সাহায্যকারী পাঠান”। – সুরা নিসাঃ ৭৫

কোরআনের  এই আয়াতটা শুনে নিজেকে মুনাফিক মনে হয়। আর নির্যাতিত মানুষের কথা শুনলে মনে হয় ভীতু , কাপুরুষ। মানবতা চিৎকার করছে , কাদঁছে………………………

আমরা শুনছি না, আমরা শুনিনি। আফিয়া ছিদ্দিকী ঠিকিই বলেছেন – ………তোমরা কেউই মুসলিম নও।
http://www.weeklysonarbangla.net/news_details.php?newsid=13673

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s