জামায়াত-শিবির অপরাধী!!!

জেলখানায় থাকার সময় একটা জিনিস বেশ খেয়াল করেছি। আর সেটা হলো আমাদের সবার ধারণা আমরা(জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা) অপরাধী না। বিনা অপরাধে জেল খাটছি। আমরা এই একটি কারণেই মজলুম। যদিও আমরা মজলুম এতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু আমরা অপরাধী না এই কথাটা মেনে নিতে পারছি না। অপরাধ কি? সে ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আধুনিক অপরাধ বিজ্ঞান দেয়নি। দেশে দেশে অপরাধের সংজ্ঞা ও ধরন বিভিন্ন। সাধারণভাবে প্রচলিত আইনের বিপরীত কোন কিছু করাকেই অপরাধ বলে। বলা যায় ”আইন যাকে অপরাধ বলে সেটাই অপরাধ”। আইনবিদ স্টিফেন এর মতে, “অপরাধ বলতে সেসব কাজ করা বা না করাকে বুঝায় যার জন্য আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে”। সমাজবিজ্ঞানে অপরাধের সংজ্ঞাও দেওয়া আছে। “Anti law activiteis is crime” আর যে ব্যক্তি অপরাধ সংঘটন করে সেই অপরাধী।
অপরাধের ধরন বিভিন্নরকম। অপরাধীর ধরনও তাই বিভিন্ন।
আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানে অপরাধ সম্পর্কে এরচেয়ে বেশি কিছু লেখা আমার দ্বারা সম্ভব না। ফৌজদারি দন্ডবিধির ৪০ ধারা অনুসারে বলা যায় , সাধারণ রীতিনীতির পরিপন্থী কাজকে অপরাধ বলা যায়।
এখন একটু ঘুরিয়ে বলা যাক। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা উপরোক্ত কারণে কেন অপরাদী হিসেবে সাব্যস্ত হবে না?
জেলখানায় যে অপরাধীগুলো থাকে তারা তো সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণে প্রচলিত আইন ভংগের জন্য দন্ডপ্রাপ্ত। তারাতো নিশ্চিত জানে তাদের অপরাধ কি, এবং সে অভিযোগ থেকে নিস্কৃতিলাভের জন্য তারা বর্তমান আইনকে মেনে নেয়।
কিন্তু জামায়াত-শিবিরের লোকজন কি আদৌ বর্তমান আইনকে মানে?

ঢালাওভাবে উত্তর দিবেন না।

ভেবে চিন্তে উত্তর দিবেন।

যদি আপনি উত্তর দেন যে আপনি বর্তমান আইন পুরোপুরি মানেন, তাহলে আপনাকে বলতে চাই আপনি কু্রআন হাদীস আবার একটু পড়ে দেখবেন।

আর যদি আপনি আমার মতোই না মানেন তাহলে আপনার জন্য কয়েকটি কথা।
প্রথমেই মেনে নিন যে আপনি একজন অপরাধী( যদিও প্রত্যেক যুগেই বিপ্লবীরা অপরাধী থাকেন, বিপ্লব সংঘঠন গওয়ার পরেই তারা জাতীয় বীর বনে যান)।
এখন কেন আপনি একজন অপরাধী সেটা একটু নেড়েচেড়ে দেখা যাক। যদিও আপনার নৈতিক মান, আচার-আচরণ অথবা সামাজিকীকরণের কোথাও আপনাকে কেউ কোনদিন খারাপ বলতে পারবে না, এবং আপনাকে আপনার শত্রুও কোনদিন খারাপ, বখাটে , নষ্ট এই অপবাদ দিতে পারে নাই। কিন্তু তারপরও আপনি অপরাধী।

* আপনার প্রথম অপরাধঃ
আপনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ এর ১ অনুচ্ছেদটা মানেন না। যেখানে বলা আছে।
“প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷”

আপনি যখন আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মেনে নিয়েছেন তখন আর আপনার দ্বারা এই অনুচ্ছেদ মানা সম্ভব হচ্ছে না। আপনি বলছেন আপনার মালিকের পক্ষ থেকে আপনাকে যা শেখানো হয়েছে। ”

“বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। আলে ইমরান:২৬ ”

“……………..তবে বল যদি আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তাঁর জননী এবং ভূমন্ডলে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে তাদেরকে বিন্দুমাত্রও বাঁচাতে পারে? নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, সবকিছুর উপর আল্লাহ তা’আলার আধিপত্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান।মায়েদা:১৭”

“তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকটি আবর্তন করে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। ইনি আল্লাহ; তোমাদের পালনকর্তা, সাম্রাজ্য তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা তুচ্ছ খেজুর আঁটিরও অধিকারী নয়। ফাতির:১২”

** আপনার দ্বিতীয় অপরাধঃ
সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদ মানতে রাজি নন যেখানে লেখা আছে।
“মানুষের উপর মানুষের শোষণ হইতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজলাভ নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হইবে।”

এই কথাটা আপনি মানতে পারছেন না। কারণ আপনি জানেন এবং মানেন যে মানবরচিত কোন আইন বা মতবাদ দিয়ে মানুষের মুক্তি সম্ভ নয়। বরং প্রতিক্ষেত্রে মানুষ নয়া মতবাদ দিয়ে এক জুলুম থেকে মুক্তির জন্য আরো বেশি জুলুমের স্বীকার হয়। জুলুমের অক্টোপাস মানুষের জীবনকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে আছে বলে আপনার বিশ্বাস। আপনাকে আল্লাহ বলেছেন,
“আল্লাহ জুলুম করেন না মানুষের উপর, বরং মানুষ নিজেই নিজের উপর জুলুম করে।ইউনুছ:৪৪”

আগেও এরকম অনেক মতবাদ এসেছিল, মানুষ জুলুম-শোষণ হতে মুক্ত হতে পারেনি। পৃতিবীতে এর আগে অনেক সভ্যতা গত হয়েছে। কিন্তু মানুষের মুক্তি কেউই দিতে পারেনি। আপনি সেটা বিশ্বাস করেন।

“তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না অতঃপর দেখে না যে; তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি কি হয়েছে? তারা তাদের চাইতে শক্তিশালী ছিল, তারা যমীন চাষ করত এবং তাদের চাইতে বেশী আবাদ করত। তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুমকারী ছিলেন না। কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।রূম:৯”

*** আপনার তৃতীয় অপরাধ হচ্ছেঃ
সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদও আপনার জন্য অস্বস্তিকর। এতে বলা আছে,
“ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য

(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,

(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,

(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,

(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন,বিলোপ করা হইবে।”

এখন আপনি প্রশ্ন করেন, যে ধর্মনিরপেক্ষতার জন্ম ইউরোপের চার্চবাদী সমাজে, সেটা আপনার-আমার মুসলিম সমাজের জন্য কতটুকু যৌক্তিক? আল্লাহ আপনাকে বলছেন যে “
“বলুন, আমার পালনকর্তা সত্য দ্বীন অবতরণ করেছেন। তিনি আলেমুল গায়ব।সাবা:৪৮”

ইসলামই একমাত্র সত্য দ্বীন বা জীবনব্যবস্থা । অন্যকোন মতবাদ মানুষের কল্যাণ করতে পারে না। এখন যদি অন্য কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও মানুষের জন্য জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা খুঁজে তখনই আপনার মনে পড়ে যায় , আল্লাহর আরেকটা বাণী ,

“তারা কি আল্লাহর দ্বীনের পরিবর্তে অন্য দ্বীন তালাশ করছে? আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক, তাঁরই অনুগত হবে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। আলে ইমরান:৮৮”

আর আপনি এই কথা গুলো এতো নিশ্চিত হয়ে বিশ্বাস করেন যে অনেক সময় আপনার বিরোধীরা আপনাকে ঠাট্টা করে। তবুও আপনি আপনার অবস্থান থেকে সরে দাড়ান না। আপনার হৃদয় কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত। কোরআনের আয়ানায় আপনি তখন দেখতে পান যে,

“যদি তারা তোমার সাথে বিতর্কে অবতীর্ণ হয় তবে বলে দাও, -আমি এবং আমার অনুসরণকারীগণ আল্লাহর প্রতি আত্নসমর্পণ করেছি।- আর আহলে কিতাবদের এবং নিরক্ষরদের বলে দাও যে, তোমরাও কি আত্নসমর্পণ করেছ? তখন যদি তারা আত্নসমর্পণ করে, তবে সরল পথ প্রাপ্ত হলো, আর যদি মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তাহলে তোমার দায়িত্ব হলো শুধু পৌছে দেয়া। আর আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে সকল বান্দা। আলে ইমরান:২০”

এই অপরাধগুলোই আপনার প্রধান অপরাধ। আমারও অপরাধ এগুলো। যে জীবনবিধান এবং সংস্কৃতি আমাকে ইসলামের পথে চলতে বাধা সেগুলো সম্পর্কে আমার কথা আছে। আমি বলে দিয়ে যায় যে, ইসলামের শ্বাশ্বত শিক্ষা যদি কায়েম করতে আমাকে এরকম অপরাধী হাজার বার হতে হয় , ,তাহলে অপরাধী হতে আমার গর্ব হয়। আল্লাহর দ্বীনের জন্য অপরাধী হয়ে একদিন কারাভোগও , গোলামির জিঞ্জিরওয়ালা এই নোংরা সমাজে বাস করার চেয়ে উত্তম। আমি ইসলামের জন্য গর্বিত। আশা করি আপনিও আপনার দ্বীন কায়েমের এই অপরাধ নিয়ে গর্বিত হবেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s