সবকিছুই তো একটা বিশাল সিংকহোল!!!

প্রতিদিন আপনার জীবনটা স্বাভাবিক চলছে। কোন চিন্তা নেই । বাচ্চারা ইস্কুলে যাচ্ছে, আপনার আপিসের কাজেও কোন ব্যাঘাত হচ্ছে না। গৃহিণীরা আগের মতোই সিরিয়াল আর কানাগুষা নিয়ে ব্যস্ত আছেন। ললনারা নতুন নতুন ড্রেস আর জুয়েলারীর আলাপ আর মাঝে মাঝে ফ্লার্টিং করেই সময় কাটিয়ে দিচ্ছেন। পাড়ার রোমিওরা নতুন কোন জুলিয়েট দেখলেই শিঁষ বাজিয়ে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করে দেখছেন। যদিও খাঁচায় পাখি ধরা দেয় না তবুও এই রোমিওরা থেমে থাকেন না। হোমিওপ্যাতির মতন ডোজ দিয়ে যান। চিরচেনা আপনার পরিবেশটাও সেরকম আছে। সরকারের নির্লজ্জ মিথ্যাচার, বিরোধীদলের আন্দোলন , দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি , বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপথ্যের লড়াই, পুলিশের গুম,খুন। মাঝে মাঝে পরেশ বড়ুয়ার খবর, কোন কিছুই আপনাকে বিচলিত করতে পারে না। আপনার পাশের বাসার কোন একটা ছেলেকে রাতদুপুরে পুলিশ এসে নিয়ে গেলো , দুইদনি ধরে কোন খবর নাই। অফিস থেকে বাড়িতে ফিরেই খবরটা শুনে মনে একটু ভাবান্তর হলো, কষ্ট পেলেন , আবার পরক্ষণেই মনের গহীন কোণের কোনখান থেকে জানি না আপনার মনে অন্তত একটা স্বস্তির নিশ্বাস চলে আসলো। “যাক বাবা আমি তো আর রাজনীতি করি না, আমার কিছু হবে না। আমি তো এখনও ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি। ছেলেটা আসলেই পুচঁকে ছিলো। কি দরকার ছিলো খালি খালি মিছিল করার। মিছিল করে কি কেউ কারো কোন ক্ষতি করতে পেরেছে। গাধা কোথাকার” ছেলেটার উপর মনে মনে একচোট দেখে নিয়ে খেতে বসলেন। খাবার টেবিলে বসেই মেজাজটা বিগড়ে গেল। “দেশী মুরগি না হলে চলে নাকি” স্ত্রীর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন , এইগুলো কোন রান্না হলো নাকি। আপনার বৌও কম যান না, দ্বিগুণ তেজে বলে উঠলেন “ওভাবে তাকাতে হবে না, যা আছে খাও আর না এটাও পাবা না” । এক্কেবারে মোক্ষম জায়গায় আঘাতটা করলো। আপনি আর কি করবেন , টিভির দিকে মন দিলেন , এই ফাকে খাওয়াটাও সেরে নিবেন , এমন সময় একটা নিউজ দেখে মনযোগ দিলেন, ““আবারো সীমান্তে বি এস এফ এর গুলিতে বাংলাদেশী কৃষক নিহত””  মেজাজ টা বিগড়ে গেল। “শালার ভুখা নাংগার দল কি দরকার ছিলো সীমানায় যাওয়ার , এখন মরো, আর কাটাতরে আটকে থাকো তোমার বাপের দেশ পেয়েছ নাকি।”  স্মরনশক্তির পুরোটায় এবার কাজে লাগালেন সীমান্তের পার্শ্ববর্তী গ্রামে আপনার কোন আত্মীয় আছে কিনা মনে করতে ।………………….. নাই। যাক, ঘুমটা এবার ভালো হবে ,কি বলেন।  বিছানায় পাশ ফিরে শুলেন, রাজ্যের নানান চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। রহিমের জমিটা বেশ, সাথে একটা পুকুরও আছে, যদিও এখনকার দিনে পুকুর চলে না। সমস্যা না, পুকুর ভরাট করে সুইমিংপুল বানানে যাবে। “খালি একটা সমস্যা, দামটা একটু বেশিই চাচ্ছে। অভাবে পড়ে নাই তো, সেজন্য এতো দেমাগ। দেবো না একটা মামলা করে। পুলিশকে ১৫-২০ হাজার টাকা খাওয়ালেই একেবারে পাঁচ বছর থাকার ব্যবস্থা করে দেবে।” নিজের বুদ্ধি দেখে, নিজেই চমৎকৃত হলেন। এবার অন্তত জায়গাটা কেনা যাবে। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতেই কখন যে গুমিয়ে গেলেন, খেয়ালই করলেন না। পরদিন সকালে নাস্তা সেরে, রেডি হয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য বের হলেন। পাশের বাসার মেয়েটাও আপনার আগে আগে হাটছে। কলেজে যাবে মনে হচ্ছে। গলি মুখের চায়ের দোকানটার কাছে পৌছতেই , শিষের আওয়াজ শুনলেন। চোখ তুলে দেখলেন, মিন্টু , কমিশনারের ছেলে, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা। পাশের বাসার মেয়েটার দিকে এমন করে তাকিয়ে আছে যেনো জিন্দা খেয়ে ফেলবে। মেয়েটা কোন মতে তাড়াতাড়ি দৃষ্টিসীমার বাইরে যেতে চাচ্ছিলো। “কিরে সুন্দরী রাগ করছো নাকি” মিন্টুর নোংরা মন্তব্য, তবুও আপনার কোন ভাবান্তর হলো না। যাইহোক, আপনার মেয়ে রিমিকে তো আর টিজ করছে না। বাসস্ট্যান্ডে চলে আসলেন। শুরু হলো আপনার আরেকটি মধ্যবিত্ত সহজ সরল ,সুখের দিন। সুখে থাকবেন। এই আশায়…………………………………………………………………..  ওহ হো হো। একটা জিনিসতো বাদই গেলো। সিংকহোল হলো হঠাৎকরে সৃষ্টি হওয়া ভূগর্ত। মানে মাটির উপরিভাগে হঠাৎ করে বিরাট গর্ত সৃষ্টি হয়ে যায়। এগুলো একেকটার ব্যাস ২ফুট থেকে ৬০০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। কয়লাখনির কয়লাগুলো নিয়ে ফেলার পর ভুগর্ভ ঝাঝরা হয়ে গেলে অনেক সময় সিংকহোলগুলো সৃষ্টি হয়। মানুষের লোভের ফসল আর কি। একটা জিনিস খেয়াল করেছেন। লোভ জিনিসটা ভালো না। আর আমাদের সবার লোভের কারণে, নিজেকে নিয়ে চিন্তার কারণে সমাজের ভালো জিনিসগুলো যে একে একে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ,খেয়াল করেছেন। এখন বড়দের সম্মান ,ছোটদের স্নেহ, অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, দুখীজনের দুঃখে কাঁদা এই ব্যাপার গুলো সমাজ থেকে উঠে গিয়েছে। সবাই খালি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। সবাই নিজের পাওনাটাই আদায় করতে চায়। পরের কি হলো ভাবার সময় নাই। কিন্তু ভাই, সিংকহোলটা তো আপনিই বানাচ্ছেন। সমাজটাকে যে ফোকলা বানিয়ে ফেলছেন, ক্ষতিটা যকন আসবে তখন আর দাড়ানোর জন্য মাটি পাবেন। বিরাট একটা গর্তই দেখতে পাবেন। আপনাকে উপদেশ দেয়াও আমার লক্ষ্য না, কারণ উপদেশ নেয়ার মতো আমার সামনে অনেকেই দাড়িয়ে আছে। আপনাকে নিয়ে ভাবুন , যে সমাজটা আপনি গড়ে দিয়ে যাচ্ছেন সেটাতেই হযতো আপনার সন্তানদের বাস করতে হবে। আপনার বানানো প্রমিথিউসটাই আপনার সন্তানদের গিলে খাবে। একটু ভালো কিছু করতে চেষ্ট করুন। আপনার সন্তানদের জন্য
গুয়াতেমালায় ২০১০ সালে এই গর্তের সৃষ্টি হয় । গর্তটি ৬০ ফুট চওড়া এবং ৩০০ ফুট গভীর ।

গুয়াতেমালায় ২০১০ সালে এই গর্তের সৃষ্টি হয় । গর্তটি ৬০ ফুট চওড়া এবং ৩০০ ফুট গভীর ।

উইন্টার পার্ক, প্লোরিডায় ১৯৮১ সালে দেখা যায়

উইন্টার পার্ক, প্লোরিডায় ১৯৮১ সালে দেখা যায়

এটি ২০০৮ সালে দেখা যায় একটি কয়লা খনিতে ওকলাহামা, কেন্সাস বর্ডারের কাছে

এটি ২০০৮ সালে দেখা যায় একটি কয়লা খনিতে ওকলাহামা, কেন্সাস বর্ডারের কাছে

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s