ইসলামিস্টরাও আপনার মতো মানুষ!!!

      আল্লাহর রহমতে আমাদের দেশের নারী সমাজের মনে একটা ধারণা আছে, ধারণাটা অনেক ক্ষেত্রে পুরুষেরদেরও আছে, আর তা হলো যারা দাড়িওয়ালা ঈমানদার, তাদেরকে অবশ্যই সাধু-সন্তু হতে হবে। এই কথার সাথে একটু দ্বিমত আছে। প্রত্যেক মুসলিমেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত তাকওয়ার জীবন গঠন করা। তাকওয়া হচ্ছে এমন একটা গুণ যেটার একটা ফল হচ্ছে খোদাভীতি, আরেকটা ফল হচ্ছে খোদার আনুগত্যের মনোভাব, আরেকটা ফল হচ্ছে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার মানসিকতা। আপনি যদি খারাপ কাজ বাদ দেন তাহলে আপনি অবশ্যই একটি ভালো কাজ করলেন। এবং এটা আপনার তাকওয়ার ফলেই সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে অনেকের কাছেই স্পষ্ট না যে তাকওয়া কত উচ্চ মানের গুণ। আমরা কথায় কথায় তাকওয়ার কথা বলে ফেনা উঠায়। ঈমান আনলেই কিন্তু মুত্তাকী হওয়া যায় না রে বৎস!!! 
   ইসলামে নৈতিকতার চারটি স্তর। যেটা ঈমান দিয়ে শুরু হয়। আপনি যদি প্রাথমিকভাবে আল্লাহ, তাঁর রাসুল স. , ফেরেশতা, আখিরাত, কবর, হাশর, মৃত্যুর পুরুত্থান মেনে নেন এবং আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি ঈমানদার হিসেবে নিজেকে মনে করতে পারেন।
নৈতিকতার দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে ইসলাম আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে ইসলামে যে আমলগুলো করতে বলা হয়েছে সেগুলো। আপনি ঈমান আনার সাথে সাথে আপনার উপর ইসলামের বিধি নিষেধ গুলো মানা ফরজ হয়ে যায়। যদি আপনি এই আমলগুলো করেন তাহলে আপনি নৈতিকতার দ্বিতীয় স্তরে পৌছাবেন। ঈমান যদি কোন গাছের শেকড় হয় তাহলে ইসলাম হচ্ছে পত্র-পল্লবে শোভিত সেই শেকড়ের উপর গজে উঠা গাছটি।
আপনার মধ্যে যখন এই দুটি অবস্থা ঠিকমতো কার্যকর থাকবে তখন আপনার মধ্যে তাকওয়ার বীজ বপিত হবে। তাকওয়া হচ্ছে মনের সে অবস্থা যা আপনাকে পাপ থেকে বিরত থাকতে, আল্লাহকে ভালবাসতে, আল্লাহকে ভয় করতে, আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার চেতনা জাগরিত করতে এবং কখনোই আল্লাহর অসন্তুষ্টিতে না পড়তে সাহায্য করবে।  তাকওয়া শব্দটি আরবি ‘ওয়াকা’  নামক ধাতুমুল থেকে এসেছে,যার অর্থ রক্ষা করা , প্রতিহত করা, বাধা দেওয়া। আমরা বলতে পারি যে, তাকওয়া হচ্ছে  আল্লাহ যা করতে আদেশ করেছেন তা পালন এব যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে  নিজেকে আল্লাহর কোপানল থেকে রক্ষা করা। এই অবস্থায় যখন আপনি উপনীত হন তখন আপনার দ্বারা অটোমেটিক সাধু হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।
 এরপর আসে ইহসান। আপনার তাকওয়ার স্তর এমন এক পর্যায়ে পৌছে যখন ইবাদাতে মগ্ন হন অথবা কোন কাজ করেন তখন আপনি আল্লাহকে  দেখছেন এটা আপনার মনে হবে। অথবা যদি তাকে এই পর্যায়ে না ফৌছেন তাহলে আপনার মনে হবে আল্লাহ আপনাকে দেখছেন।
  তাহলে এই লম্বা ব্যাখ্যার দরকারটা কি ছিলো? ব্যাপারটাই জটিল। যখনই একজন মানুষ ইসলামের পথে এগিয়ে আসেন তখন তিনি তার অতীতের ভুলগুলো না করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েই আসেন। তিনি আগেও কোন সাধু ছিলেন না, অথবা তার চরিত্র কোন পীরের মতো ছিলো না, তিনি ইসলামের পথে আসেন যাতে তার দ্বারা ইসলামী নৈতিকতার সর্বোচ্চ স্তরে আরোহণ করা সম্ভব হয়। এটা একটা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্ট সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।এখন এই পথে চলার সময়ে তার দ্বারা যদি , শয়তানের ধোকায় হোক , অথবা নফসের তাড়নায় হোক , কোন ভুল হয়েও যায়, তাহলে কি আমরা তাকে ফেলে দিবো? তাকে ফেলেই দিলাম, তাহলে কোন দিকে ফেলবো? আমরা কি তাকে ঠিক সেই আগের জায়গাটাতে রেখে দিচ্ছিনা যেখান থেকে সে উঠে এসেছে?
তার করা ছোট একটা ভুলের জন্য হয়তো আমরা তাকে এমন একটা শাস্তি দিয়ে দিলাম যাতে সে তার আগের ক্লেদাক্ত জীবনে ফেরত গিয়েছে। ভাই সংশোধনের রাস্তাটা বন্ধ করবেন না, প্লিজ।
মনে রাখবেন, Every saint has a past, and every sinner has a future.

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s