উদ্দেশ্য যখন একটি চমৎকার রামাদান, আপনার লক্ষ্য স্থির করেছেন তো?

 পর্বসমুহ :: প্রথম পর্ব :: দ্বিতীয় পর্ব ::  তৃতীয় পর্ব :: চতুর্থ পর্ব ::

লক্ষ্য স্থির করা সবসময় খুবই সোজা এবং স্বতঃস্ফূর্ত একটা কাজ বলে মনে হয়, কিন্তু প্রায় সময় লোকজন এই কাজটা করতেই ব্যর্থ হন। কারণ মানুষ কখনোই তার জন্য সঠিক লক্ষ্য ঠিক করতে পারেন না। আর আমরা যে পরিবেশে বড় হয়েছি সেখানে অধিকাংশ লোকই লক্ষ্যস্থির করা শিখে আসেন না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা লক্ষ্য স্থির না করেই ইচ্ছা দিয়ে কাজ চালিয়ে দিতে চান।
প্রথম পর্বে আমরা নিজেদের জন্য করণীয় নির্ধারণ করেছি। আজকে আমি আপনাদের সাথে The 4 P’s to properly document goals, বা লক্ষ্যস্থির করতে ৪ টা P এর সম্পর্কে এবং রামাদানের জন্য লক্ষ্যস্থিরের কাঠামো আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ।

  • লক্ষ্যস্থিরের জন্য কার্যকর পদ্ধতি>> The 4 P’s goals documentation

আশ্চর্য জনক হলেও সত্য যে লক্ষ্যস্থিরের পদ্ধতির উপর আপনার সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে। অনেকেই আছেন যারা তাদের লক্ষ্য সমুহ নোট করে রাখতে চান না।এবং লক্ষ্যগুলোকে স্মৃতিতেই ধারণ করতে চান।
কিন্তু সত্যি বলতে কি, আপনি যদি আপনার লক্ষ্যগুলোকে নোট করে রাখেন তাহলে তা আপনার লক্ষ্যার্জনে অনেক বেশি সহায়তা করবে। কিন্তু শুধু লক্ষ্যগুলোকে লিখে রাখা বা নোট করাই যথেষ্ঠ নয়, আপনি যা লিখবেন সেটা লিখার পদ্ধতিটা যথাযথ হওয়া দরকার। যেহেতু আপনি সময় এবং শ্রম দুটোই এই লক্ষ্যগুলো লিখেতে ব্যবহার করছেন, সেজন্য আপনার এগুলো সঠিক ভাবে করাটাই যক্তিযুক্ত। নিচে চারটা P সম্পর্কে আলোচনা করা হলো
১. Positive বা ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গী
অসংখ্য মানুষ তাদের জীবন থেকে নেতিবাচক জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলতে চান। হতে পারে এটা কোন খারাপ অভ্যাস(ধুমপান, মাত্রাতিরিক্তি খরচ) অথবা খারাপ কোন কথা। এই সমস্ত লোকদের লক্ষ্য হয়ে থাকে কোন নেতিবাচক কাজ বাদ দেয়া। আপনি কি করতে চাননা, অথবা আপনি যা পরিবর্তন করতে চান তার বদলে আপনি যা করতে চান সেখানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। আপনার মন আপনি যেদিকে আগ্রহ দেখাবেন সেদিকেই মনোযোগ দিবে। আপনার লক্ষ্য যদি নেতিবাচক হয় তাহলে আপনার মন ঐ নেতিবাচক কাজটার প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট হবে। নেতিবাচক কাজের প্রতি আগ্রহ থাকার কারণেই অনেক ব্যক্তি তাদের খারাপ অভ্যাসগুলো ছেড়ে দিতে ব্যর্থ হন। এই জন্য কখনোই আপনার লক্ষ্যকে নেতিবাচকতার মোড়কে আবৃত করবেন না। ‍উদাহরণ স্বরুপ আপনি কখনোই বলবেন না যা, ২০ কেজি ওজন কমানো, বরং বলুন আমি আমার ওজন এত কেজি করতে চাই। ‘কোরআন শেষ করতে ব্যর্থ না হওয়া’ এই বাক্যটার পরিবর্তে বলুন ‘কোরআন খতম করা’

২. Person বা পুরুষবাচক শব্দ ব্যবহার
এই ক্ষেত্রে আপনার জন্য করণীয় হচ্ছে, আপনার লক্ষ্যটাকে একটা বাক্যে পরিবর্তন করুন , এবং নিজেকে ঐ বাক্যে অন্তর্ভূক্ত করুন। অন্য কথায় , আপনার লক্ষ্যটাকে উত্তম পুরুষে একটা বাক্যে ব্যক্ত করুন। এই কাজটা আপনার মনকে, আপনার ব্যক্তিত্ব এবং আপনার লক্ষ্যের মধ্যে সংযোগ ঘটানোর জন্য পরিচালিত করবে, যার ফলে আপনার অবচেতন মন সে লক্ষ্য অর্জনে অনেকগুলো বিক্ল্প নিয়ে কাজ করবে। উদাহরণ স্বরুপ, কোরআন খতম করা এই কথাটার পরিবর্তে বলুন‘ আমি কোরআন খতম করতে চাই;

৩.Present tense বা বর্তমান কাল
প্রায়ই লোকজন তাদের লক্ষ্যকে ভবিষ্যতের কোন একটি সময়ের জন্য ঠিক করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ‘আমি কুরআন খতম করব’ এটার পরিবর্তে আপনি এখন থেকে নতুন একটা চিন্তা মাথায় আনুন। ভাবুন যে , আপনি কোরআন খতম করেছেন, এবং খতমের পরে আপনি আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করছেন। আপনাকে আল্লাহ কোরআন খতমের জন্য তৌফিক দেওয়ায় , আপনার উপর তারঁ রহমতের ব্যাপারে চিন্তা করুন। এই লক্ষ্যার্জনের ফলে আপনার মনের মাঝে ঘটে যওয়া প্রতিক্রিয়া এবং আনন্দানুভূতি কল্পনা করুন। যদি আপনি আপনার এই অনুভূতি আর আবেগকে আপনার লক্ষ্যের সাথে মিলাতে পারেন তবে আপনার লক্ষ্যার্জন হবে সহজ, আনন্দময় এবং পূরণযোগ্য। সহজ কথায় বলতে গেলে তখন আপনার লক্ষ্যটা হবে অনেকটা এরকম‘ কোরআন খতম করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত’।

৪. Picture বা মনছবি
যখন আপনি আপনার লক্ষ্যকে বাক্য এবং অনুভূতিতে একাকার করে দিতে পারবেন , তখন আপনার যে জিনিসটা দরকার হবে সেটা হচ্ছে একটা মনছবি। আমাদের মন শব্দ বা বাক্যে চিন্তা করে না। আমাদের মন ছবি নিয়ে চিন্তা করে। যদি আপনার মনছবি থাকে তাহলে সেটা আপানার লক্ষ্যকে মজবুত ভিত দান করবে। তাই আপনার লক্ষ্য যদি হয়, ওজন কমানো তাহলে আপনার কল্পনা করতে হবে যে ওজন মাপার স্কেলে আপনি ৬৫ কেজি ওজন দেখছেন, অথবা আপনার লক্ষ্য যদি হয় , আপনিকোরআন খতম করবেন, তাহলে আপনি কল্পনাকরতে পারেন যে আপনি কোরআনের সর্বশেষ পৃষ্ঠাটি তেলাওয়াত করছেন, এবং আপনি কোরআন খতমের পরে দোয়া করছেন।

  • রামাদানে লক্ষ্য স্থিরের কাঠামো

লক্ষ্যস্থির করতে জানা এক জিনিস কিন্তু কি রকমের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে , সেটা নির্ণয় করা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। এটাকে সহজ করতে আপনাদেরকে একটা কাঠামোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। যেহেতু রামাদান আমাদের জীবনকে পরিবর্তন কর, সেহেতু এই কাঠামোর নামও RAMADAN। আপনার লক্ষ্যগুলোকে অবশ্যই এই কাঠামোর সাথে সমন্বিত হতে হবে।

১. R for Relevant বা প্রাসঙ্গিকতা
যখনই আপনি রামাদানের জন্য লক্ষ্যস্থির করবেন, তখন মনে রাখবেন, এই মাসটা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। আপনি এই মাসে কখনই ২০টা লক্ষ্য ঠিক করবেন না, যেটা দাওয়াত সংক্রান্ত হবে। এমন কি পূর্বতন আলেমরাএই মাসে তাদের ফিকহ্ এবং হাদীসের গ্রন্থগুলো বন্ধ রেখে আল্লাহর কিতাব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। আরো মনে রাখবেন, আপনি এই মাসের জন্য যে লক্ষ্যগুলো স্থির করবেন তা যেনো অবশ্যই রামাদানের সাথে প্রাসঙ্গিক হয়।
আরেকটা ব্যাপার আপনার মাথায় রাখতে হবে যে, এই লক্ষ্যগুলো যাতে আপনার সাথে প্রাসঙ্গিক হয়। আপনি চিন্তা করুন এই কাজগুলো কি আপনি আসলেই সম্পন্ন করতে চান নাকি, আপনাকে কেউ কি এগুলো করার জন্য চাপ দিচ্ছে?আপনার বউ/জামাই কি আপনাকে বলছেন যে, আপনার ওজন কমানো দরকার?
আপনি কখনোই এরকম জিনিসের সাথে সমঝোতা করবেন না। যদি আপনি এভাবে আপনার মনের ইচ্ছার সাথে অন্য কারো চাহিদার সমঝোতা করেন তাহলে আপনি কখনোই সে লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন না। আমি অন্তত বিফল হতে চাই না।

.A for Aspiration বা উচ্চভিলাষ:
রামাদানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনি আপনার সক্ষমতা বাড়াবেন এবং আপনি আপনার কমফোর্ট জোনের বাইরে পা রাখবেন যাতে আপনি বড় কিছু আকাঙ্খা করতে পারেন। যখন আপনি রামাদানের জন্য লক্ষ্যস্থির করছেন তখন এমন লক্ষ্যস্থির করুন যা আপনার নিজের কাছেই অসম্ভব মনে হয়। আপনি এর আগে রামাদানে প্রত্যেক রাতে তারাবীহ কোনদিন পড়েন নি? তাহলে এই রামাদানে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন যে আপনি তা করবেন। আমরা আগের পর্বে একমত হয়েছিলাম যে, আল্লাহ রামাদানে মানুষের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেন।
রামাদান আপনার জীবনের জন্য নতুন মানদন্ড এবং ভাল অভ্যাস গঠনের জন্য সুযোগ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। এমনও হতে পারে আপনি রামাদানের পর সারাবছরই ঈশার নামাজ মসজিদে পড়তে থাকলেন, যদিও আপনি আগ তা কখনোই করতেন না। রাসুল স. নিজেও রামাদানে কোমর বেধেঁ কাজে নেমে পড়তেন। তিনি তো শেষ দশদিনে এমন কাজ করতেন যেটা তিনি আগেও করেছেন , কিন্তু তিনি এই আরো মনোযোগ এবং নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করতেন। যদি আমাদের নবীজি, যার পূর্বের এবং পরের গুণাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছিল, তিঁনি যদি এভাবে কঠিন পরিশ্রম করতে পারেন । তাহলে আমরা কেন পারবো না? আমরা অবশ্যই পারবো।

৩.M for Measurable বা পরিমাপযোগ্য:
আপনি লক্ষ্য ঠিক করুন যেটা পরিমাপযোগ্য। এটা আপনার লক্ষ্যকে মুল্যায়ন করবে এবং আপনার লক্ষ্যকে স্পষ্ট করবে। আপনার লক্ষ্য যদি হয় এই মাসে কোরআন খতম করা , তাহলে আপনাকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ পৃষ্টা কোরআন তেলাওয়াত করতে হবে। আপনি এটাকে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করতে পারেন। পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর চার পৃষ্ঠা করে, অথবা অফিসের আগে দশপৃষ্টা এবং অফিসের পরে দশপৃষ্ঠা, অথবা আপনি সেহরীর পরে ৫ পৃষ্টা, ইফতারের আগে দশ পৃষ্টা এবং ইফতারের পরে পাটঁ পৃষ্টা তেলাওয়াত করতে পারেন। এভাবে সংখ্যায়ন করার ফলে আপনার লক্ষ্যটা বাস্তবসম্মত হবে এবং এই লক্ষ্যটা অর্জনের একটা পরিকল্পনা তৈরী করতে পারবেন।

.A for Assess গণনা করা :
আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জনে কতটুকু সফল হয়েছেন, দৈনিক আপনার লক্ষ্যের কতটুকু পূরণ করেছেন সেটা পরিমাপ করার একটা পদ্ধতি থাকা দরকার। আর এই পদ্ধতিটাকে বলা হয় মোহাসাবা বা আত্মসমালোচনা। হযরত ওমার রা. বলেন ওমর (রা.) বলেছেন, “তোমরা আল্লাহর হিসাব নেয়ার আগেই নিজেই নিজের হিসাব নাও এবং আল্লাহ তোমার আমল ওজন করার আগে নিজের আমল করো।”
প্রত্যেক মুসলিমের নিজের দৈনিক আমল পরিমাপ করার একটা পদ্ধতি থাকা উচিত। সেটা রামাদানে হোক অথবা বছরের অন্য যে কোন  সময় হোক। আপনি ছক করে আপনার আমলগুলো হিসাব করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রিপোর্ট যেটা অনেক ইসলামী সংগঠন ব্যবহার করে সেটা আপনার জন্য কাজের হতে পারে। অথবা আপনি নিজেই নিজের জন্য একটা রিপোর্ট বই বানাতে পারেন। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে, আপনার সারাদিনের কাজ/ আমল পর্যালোচনা করা উচিত এবং কোন জায়াগাতে সংশোধনের প্রয়োজন আছে তা বের করা দরকারএরপর সাপ্তাহিক পর্যালোচনা করুন।
.D for Definite বা নির্দিষ্ট:
লক্ষ্য ঠিক করা সময় আপনার স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন টার্গেট থাকা জরুরী। আপনার লক্ষ্যের পরিমাপযোগ্যতা যেমন আপনাকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেয় , ঠিক তেমনি আপনার লক্ষ্যের নির্দিষ্টতা আপনাকে সাফল্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে। “আমি রামাদানে আরো ভালো হতে চাই” এটা বললেই হবে না। নির্দিষ্ট করে বলুন । আপনি আপনাকে কিভাবে ভালো করবেন? আপনার পিতামাতার সাথে আপনার আচরণ কেমন হবে? আপনার প্রতিবেশির সাথে? আপনার নামায কেমন হবে? আপনি কিভাবে জানবেন যে আপনি সফল হয়েছেন? অন্য কেউ কি আপনার সাফল্য সম্পর্কে আপনাকে ওয়াকিফহাল রাখবে? এই প্রশ্নগুলো এমনভাবে সাজান যাতে অন্য কেউ আপনাকে আপনার কাজ নিয়ে মুল্যায়ন করতে পারে।

৬.A for Appointment/Agenda  সময় নির্ধারণ:
আপনার ১০০ টা লক্ষ্য থাকতে পারে, এবং সেটা হবে একটা বিরাট ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি আপনার প্রত্যেকটি কাজের জন্য সময় ভাগ করে না দেন , তাহলে এই লক্ষ্যগুলো আপনি কখনোই পূরণ করতে পারবেন না। এজন্য আপনার লক্ষ্যগুলোর জন্য আগে থেকে পরিকল্পিত সময় নির্ধারণ করে দিন। আমরা কোরআনের উদাহরণটাতে ফিরে যাচ্ছি। যদি আপনি প্রতিদিন২০ পৃষ্টা করে কোরআন তেলাওয়াত করতে চান , তাহলে এই বিশ পৃষ্টা তেলাওয়াত করতে আপনার কয় ঘন্টা/ মিনিট লাগবে? ধরি আপনার প্রায় এক ঘন্টা লাগবে। এখন আপনি যদি কোরআন তেলাওয়াতের জন্য এক ঘন্টা ব্যয় করেন তাহলে স্বাভাবিক ভাবে তখন অন্য একটা কাজে আপনার সময় কম দিতে হবে। ধরে নিলাম, আপনি ২০ টা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করবেন। এখন আপনার ঠিক করতে হবে যে, এই দুটি ভালো কাজের মধ্যে কোনটি আপনার মুল্যবান একঘন্টা পেতে পারে? আপনি যদি এটা অগ্রিম চিন্তা করেন তাহলে আপনার সুবিধা হচ্ছে, আপনি যে কোন একটা ভালো কাজ বাদ দেওয়ার জন্য হতাশায় ভুগবেননা।
সময় নির্ধারণের একটা প্র্যাক্টিক্যাল লাভ আছে । আপনি যদি আপনার স্মার্ট ফোন অথবা কম্পিউটারে যদি আগে থেকে কোন কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করে রাখেন তাহলে আপনি বুঝবেন যে আপনার সিডিউলে কোন সময়টা খালি আছে।

.N for Novelty বা নতুনত্ব
ফি বছর আপনি কোরআন খতমের টার্গেট নেন, কিন্তু প্রতিবছরই আপনি বিফল হন। এভাবে আপনার মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক শূণ্যতা সৃষ্টি হয়। আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে আপনার দ্বারা কোন আমলগত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
এই্ রামাদানে আপনি নতুন কোন আমলের প্রতি দৃষ্টি দিন। হতে পারে বেশি বেশি জিকর করা এবং কুরআন খতমের জন্য কম চেষ্টা করা। আপনি কোরআন খতমের লক্ষ্যটাকে একেবারে ছেড়ে দিবেন না, তবে কোরআন খতমের চেয়ে গুরুত্ব দিন তেলাওয়াত এবং তাফসীরে। তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে করবেন, আর কোরআনের শৈল্পিক সৌন্দর্য , কুরআনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিয়ে চিন্তা করুন। এভাবে যখন আপনি নতুন করে আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেবেন তখন আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং প্রেরণার সৃষ্টি হবে , যেটা আপনাকে আপনার পুরনো লক্ষ্যগুলো অর্জনে সাহায্য করবে। অবশ্য লক্ষ্য স্থির করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখেবেন সেটা যেনো আপনাকে শ্রেষ্ঠত্বের নতুন স্থরে আরোহণ করায়। যদি আপনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামায়াতে আদায় করেন তাহলে রামাদানের জন্য সেটা লক্ষ্য হিসেবে ঠিক করবেন না। বরং এমন কিছু করুন যেটাতে নতুনত্ব এবং উত্তেজনা আছে। আপনি যদি আপাতত পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় না করেন তাহলে রামাদানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের টার্গেট নিতে পারেন।

  • করণীয়

এবারে আপনি গতপর্বে যে তালিকাটা তৈরী করেছিলেন সেটা হাতে নি আার এই পর্বের উপর ভিত্তি করে সেগুলো সম্পদানা করুন। আপনি 4 P এবং RAMADAN  কাঠামোটা ব্যবহার করুন। পূর্বের লিস্ট থেকে আপনি পাচঁ বা দশটি লক্ষ্য পছন্দ করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন। পরবর্তী পর্বে আমরা সেটা ব্যাখ্যা করবো। ইনশা আল্লাহ।

বি.দ্র. এই লেখাটা প্রডাক্টিভ মুসলিম ওয়েবসাইট থেকে রুপান্তরিত

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s