উদ্দেশ্য যখন একটি চমৎকার রামাদন, চমৎকার দোয়া, চমৎকার একটি বছরের জন্য।

প্রথম পর্ব :: দ্বিতীয় পর্ব ::  তৃতীয় পর্ব :: চতুর্থ পর্ব :: বোনাস

অনেকেই মনে করেন রামাদান এতো গুরুত্বপূর্ণ হওয়া কারণ হচ্ছে শবে কদর। এই মাসটিতে শবে কদরে রাত রয়েছে যে রাতটি ১০০০ মাসের চেয়ে উত্তম। কিন্তু কি কারণে এই রাতটি এতো গুরুত্বপূর্ণ? সত্য বলতে কি এই রাতে আল্লাহর পক্ষ হতে সারা বছরের জন্য তাক্বদীর বা ফরমান চলে আসে।
আল্লাহ তায়অলা এরশাদ করেন

 إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا ۚ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ  

 “আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী। ”(সুরা আদদুখান: আয়াত ৩-৫)

এবং অন্য জায়গায় বলা হয়েছে, যে আয়াতটা আমাদের কাছে খুব পরিচিত

تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ

“এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। ” (সুরা আল কদর:৪)

আপনি কি জানেন, আপনি এই ফরমানকে অথবা আপনার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারেন? যখন তাক্বদীর আসমান থেকে নেমে আসে তখন একে পরিবর্তন করার মোক্ষম সময়। কিভাবে করবেন?
নিসন্দেহে এটা হচ্ছে দোআর শক্তি! রাসুল স. বলেন“দোয়া ছাড়া অন্য কোন কিছুই মানুষের তাক্বদীর পরিবর্তন করতে পারেনা।’ -সহীহ ইবন মাজাহ

অন্য একটি হাদীসে এসেছে, তিনি স. বলেন “ দুয়া যে ঘটনাগুলো ঘটে গিয়েছে এবং যে ঘটনাগুলো ঘটবে উভয়ক্ষেত্রে লাভ করতে পারে । যখনই কোন বিপর্যয় আসে তখন দুয়া এর মুখোমুখি হয় এবং এর সাথে পুরুত্থান দিবস পর্যন্ত যুদ্ধ করতে থাকে ।”  সুনানে এবনে মাজাহ
এই কারণে রামাদান মাস বিশেষত এ মাসের শেষ দশদিন হচ্ছে দুয়া করার সবচেয়ে কার্যকরী সময়।
যেহেতু আমরা একটা ফলপ্রসু ও চমৎকার রামাদান চাই, তাই এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে আমরা নিষ্টা , আন্তরিকতার ও সতর্কতার সাথে রামাদানের জন্য প্রস্তুতি নেবো, ইনশাআল্লাহ। এবং আমাদের দুয়াগুলো আমাদেরকে পুরো মাস এই লক্ষ্যার্জনে আমাদের মনোযোগ ধরে রাখবে। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন দুয়াসমুহ আমার জীবনকে এই বছর পরিবর্তন করতে পারে?
এবং সন্দেহাতীতভাবে আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করনে। বাকি লেখায় আমি আপনাদের সাথে এই দুয়াগুলো তৈরী করার জন্য কিছু টিপস শেয়অর করবো।

আটটি দুয়া , যা আপনি অবশ্যই  এই রামাদানে করবেন। 

প্রত্যেক রামাদানে অগ্রীম আটটি দুয়া ঠিক করে রাখা উচিত। নিচে যে চারটি বিয়ষবস্তু দেওয়া হলো এর প্রত্যেকটি থেকে দুটি করে দুয়া ঠিক করুন। আটটি হতে হব, এমন কোন কথা নেই। আমি রামাদানে আট রাকাআত তারাবীহ পড়ি। যদিও বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদে ২০ রাকাআত তারাবীহ পড়ানো হয়। তাই আপনি ১০ নিয়াতের জন্য ১০ টি দুয়া ঠিক করতে পারেন।
আপনি কয়টি দুয়া পড়বেন, অথবা কয় রাকাআত তারাবীহ পড়বেন এটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটা ব্যাপার, এবং সেটা হচ্ছে আপনি এই কাজে সময় এবং শ্রম ব্যয় করছেন। কল্পনা করুন, রামাদানের ২৯ বা ৩০ দিনের তারাবীহর নামাযের সময়  কি পরিমাণ নিষ্টা এবং একাগ্রতা আপনি আল্লাহর সামনে এই দুয়াগুলোর মাধ্যমে পেশ করছেন! আপনি যদি অটল থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই লাইলাতুল ক্বাদর ধরতে পারবেন। আপনি এমন নিষ্টা আল্লাহর সামনে পেশ করবে যা খুব কম মানুষই করতে পারে। আপনি যে আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী সেটা এই কাজগুলোর মাধ্যমে প্রমাণ হবে। এই যদি হয় আপনার অবস্থা, তিনিঁ আল্লাহ আপনাকে খালি হাতে কিভাবে ফেরত দিবেন।
আপনি এই দুয়াগুলো নিয়ে যতই চিন্তা করবেন এবং আবেগ ঢেলে দিবেন , ততই আপনার জন্য ভালো। তবে , অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না। আপনি যদি সময় স্বল্পতায় থাকেন তাহলে ৫ মিনিটেই এই দুয়াগুলো সম্পন্ন করুন।
এই আরেকটা ব্যাপার মাথায় রাখুন, আপনি যে দুয়া ঠিক করবেন , সেগুলো দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পর্বে যে লক্ষ্যগুলোর ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলেও চলবে। দুয়ার যে লিস্ট টা আপনি বানাবে সেটা আপনার পুরো জীবনের জন্য, কিন্তু আপনার লক্ষ্যগুলো শুধুমাত্র রামাদানের জন্য।
যদিও আপনার দুয়া কবুল হবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা নেই, তবুও আপনি দুয়া করে যাবেন। আপনার দুয়া বিপদ, অসুস্থতা অথবা অন্য কোন কষ্টদায়ক পরিস্থিতি যেটা আপনার তাক্বদীরে ছিলো সেটাকে প্রতিহত করবে। এই অর্থেও আপনার দুয়া কবুল হবে, যদিও আপনি যা চেয়েছিলেন সেটা হয়তো বাস্তবে হয়নি। আমরা কখনোই জানি না আমাদের জন্য কোন জিনিসটা মঙ্গলজনক। কিন্তু আল্লাহই সর্বজ্ঞাত ( সুরা বাকা:২১৫)

দুয়ার জন্য চারটি বিষয়ব্স্তু 

১. দ্বীন
যেহেতু রামাদান হচ্ছে তাকওয়া এবং মানোন্নয়ের সময়, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যাতে তিনি আপনার মানোন্নয়ন করেন। আপনার দ্বীনের দুটো জিনিস ঠিক করুন যেটাতে আপনি উন্নতি করতে চান , এবং আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে সাহায্য চান যাতে আপনাকে তিনি সাহায্য করেন। আপনি এখনও হজ্জ ও ওমরা পালন করেন নি,? আল্লাহর কাছে দুয়া করুন যাতে আপন িআগামী রামাদানে হজ্জ ও ওমরা সম্পাদন করতে পারেন। শুনতে অসম্ভব মনে হচ্ছে? আল্লাহর জন্য এটা করা কঠিন কোন কাজ নয়। আপনি কি পুরো কুরআন হিফয করতে চান? অথবা কুরআনের কিছু অংশ? এটা আল্লাহর জন্য সহজ, তিনি আপনাকে সাহায্য করবেন ।কোন বদঅভ্যাস ছেড়ে দিতে চান অথবা, নতুন কোন ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে চান? আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য এটাই হচ্ছে উত্তম সময়। 

. দুনিয়া  
তারাবীহর সময় যে দুয়াটা প্রথমেই আমরা পড়ি সেটা হচ্ছে  রাব্বান আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসান  বা “হে আমাদের প্রভু আমাদেরকে দুনিয়ায় ভালো কিছু দান করো….”  আল্লাহ আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনের জন্য চাইতে শেখান। আমার কাছে এটা তো চমৎকার মনে হয়। যতদিন এই দুনিয়ায় থাকবো, ততদিন আল্লাহর দেওয়া ভালোগুলো যতোবেশি সম্ভব সঙগ্রহ করতে চািই। তাই আল্লাহর কাছে মনের গভীর থেকে চান। আপনি কি বিয়ে করতে চান? চাকরি? ব্যবসা? গাড়ি? বাড়ি? আল্লাহর কাছে চাওয়ার এটা উত্তম সময়।

. আখিরাত 
আগের যে দুয়াটার কথা বলেছি সেটা বাকি অংশ হচ্ছে ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানা অথবা আমাকে আখিরাতেও ভালো কিছু দান করো। যেহেতু আমাদের চুড়ান্ত গন্তব্য হচ্ছে আখিরাত, তাই নামাজের একটা অংশ আখিরাতের জন্য উৎসর্গ.
মনে রাখুন, দুয়াগুলো এভাবে একটার পর আরেকটা সাজানো মানে কিন্তু একটার চেয়ে আরেকটার গুরুত্ব বাড়ানো নয়। আপনি আখিরাতের জন্য স্পেশাল কোন দুয়া করতে পারেন। যেমন আমি চাই আমি যাতে জান্নাতে রাসুল স. এর সাথে বসতে পারি এবং আল্লাহর সাথে কথা বলতে পারি তাকে যেনো দেখতে পারি। আমি জাহান্নামের আগুন থেকে বাচঁতে চাই। আপনি কি জাহান্নামের কোন একটি আজাবকে বেশি ভয় পান। তাহলে আল্লাহর কাছে পানাহ চান। 

. বিবিধ 
রামাদান স্বার্থপর হওয়ার সময় নয়। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যাকাত দিতে আদেশ করেন আবং আমাদেরকে ঈদ ও তারাবীর নামাযে এক হতে সাহায্য করেন। তাই আপনি যখন রামাদানে দুয়া করার পরিকল্পনা নিচ্ছেন তখন এটা আপনার জন্য জরুরী যে আপনি অন্যদেরকে মনে রাখবেন। অনেক মানুষ কষ্ট পাচ্ছে তাদের কষ্টের কারণ ও বিভিন্ন। তাদের অবস্থা মেন রাখতে সচেতন হোন । আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের কথা চিন্তা করুন, আপনার সমাজ এবং আমাদের উম্মাহর কথা চিন্তা করুন। প্রত্যেকের জন্য দুয়া করার সময় আমরা ফেরেশতাদেরকে আমাদের সাথে পায়, যারা আমাদের দুয়া কবুলের জন্য আমীন বলবে।
অনেকগুলো দুয়ার মাঝে প্রত্যেক বিভাগের জন্য শুধুমাত্র দুটো দুয়া কিভাবে নির্ধারণ করবেন? নিচে আপনার জন্য
করণীয়
১.একটি কাগজে নির্ধারিত ৮ টি দু্য়া লিখে নিন, এবং সেটা আপনার পকেটে রেখে দিন।
২. আপনি যদি ডিজিঠাল টাইপের হন তাহলে এগুলোকে আপনার নোটপ্যাড অ্যাপ রাখুন অথবা দুয়ার লিস্ট এবং লক্ষ্যে লিস্টগুলোকে একটা ছবি বানিয়ে সেটাকে আপনার ডেস্কটপের অথবা স্মার্টফোনের ওয়ালপেপার হিসেবে সেট করুন।
৩. এই তালিকা/ অথবা ছবিটা সবসময়ই পড়ুন, বিশেষত তারাবীর বিরতির সময়।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s