ইসলামিস্টরা শুনে যান।

বর্তমান সময়ে একটা জিনিস বেশ লক্ষণীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই মেরুকরণ স্পষ্ট। কিছুদিন আগেও এই মেরুকরণের ফলে , রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো। আদর্শবাদী দল মাত্রই চিন্তিত ছিলো, কি হবে না হবে? এ যেনো জাতিকে সর্বগ্রাসী জুলুমে বন্দি করার পায়তারা। বাম-ডান উভয় ঘরাণার বিপ্লবীরা সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাছে ইতিহাস মোড় নেয়, এই ভীতিটা সবার মনে। একদিকে ক্ষমতার কাধে ভর করে বামরা সাম্যবাদী , চেতনার গোলামীর জন্য বিপ্লব করতে চাচ্ছে, অন্যদিকে ইস

লামপন্থীলা বিশ্বব্যাপী আ’দলের উপর ভিত্তি করে মানবাতার মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালাচ্ছে।
মোদ্দাকথা হলো, গোলামী হোক বা স্বাধীনতা হোক, প্রত্যেকটা আদর্শবাদী আন্দোলনই নিজের জন্য জায়গা খুজছে।

 কিন্তু আদর্শকে বিজয়ী করা কোন সহজ কাজ নয়। বিপ্লব হলো সমাজের গলিত লাশের উপর সৃষ্ট নতুন এক ফ্রান্কেনস্টাইন। বিপ্লব হলো জ্যান্ত মানুষের চামড়া তুলে নতুন চামড়া গজানোর জন্য অস্ত্রোপচার চালানো। বিপ্লব হলো, আমি মানি না’কো কোন আইন” এই কথা বলে শ্বাশত বিধান প্রতিষ্ঠা।

 বোঝাই যাচ্ছে, এটি কোন সহজসাধ্য কাজ নয়, এককথায় অসম্ভব।
কিন্তু মাথায় রাখা জরুরী, অসম্ভবকে সম্ভব করাই যাদের ব্রত তারাই বিপ্লবী, তারা বিদ্রোহী।  পাথরে ফুল ফোটাতে পারে যারা, শান্ত হ্রদে ঢেউয়ের তাড়না তুলে যারা, তারাই বিপ্লবী। মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যু্দ্ধ করি যারা, তারাই বিপ্লবী। এই বিপ্লবীদের খুজে পাওয়া কঠিন , আবার খুব সহজও । সমাজের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বিপ্লবী , চোখ খুলে দেখা বাকি। খুজে দেখুন, আপনার আশপাশেই হয়তো এমন কেউ আছে যে আপনাকে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখাতে পারবে।
 প্রশ্ন হলো, বিপ্লবীদের অবস্থান স্বত্তেও, স্বপ্ন, স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা স্বত্তেও কেন বার বার, বিপ্লব দূরে চলে যাচ্ছে?।কেন বারে বারে, ঘুঘু এসে ধান খেয়ে যাচ্ছে?  উত্তর জরুরী।

বিপ্লব সফল হওয়ার জন্য কয়েকটি দিক জরুরী, পরিকল্পিত কর্মপন্থা সর্বাগ্রে। দ্বিতীয়ত জরুরী বিপ্লবের মাইলফলক নির্ধারণ। তৃতীয়ত জনশক্তির প্রশিক্ষণ ও তত্ত্বাবধান। এবং সর্বশেষ, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সমাজের বিভিন্ন নিয়াকগুলো যথোপযুক্ত ব্যবহার।
বিপ্লবের নিয়ামকগুলো হচ্ছে, আদর্শের সুস্পষ্টতা ও আদর্শের জন্য উৎসর্গীকৃত জনশক্তি, বিপ্লব নির্ধঅরিত অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক চিত্র, শিক্ষার প্রসার, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জনসাধারণের মনোভব বা জনমত।

 এখন বাম ঘরানার সাম্যবাদী ও ইসলামপন্থী উভয়ই বিপ্লব সাধনের পন্থা এবং নিয়ামকগুলোর ব্যবহারলব্ধ সম্ভাবনা অর্জনের সচেষ্ট। তাই নিজ নিজ বলয়ে উভয়ে নিজস্ব চিন্তাধারা মাধ্যমে এবং একিট ডকট্রিনকে নিয়ে সমাজ পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। একইসাথে দুটি বিপ্লব কোন সমাজেই সম্ভবপর নয়। সংঘাত অনিবার্য এবং এক পক্ষ পরাজিত হবেই এতে কোন সন্দেহ নেই। এখন যে পক্ষ জিতুক না কেন, তারাই বিপ্লব করতে পারবে। আর যে পক্ষই হারবে, তারা হবে লোজিং টিম, যাদের কোন ভ্যালু থাকবে না, তারা কোনমতে টিকে থাকবে, কিন্তু তাদের বিপ্লব আরো অনেকদিনের জন্য পিছিয়ে যাবে। তাদেরকে বিজয়ী শক্তির দর্শনের আলোকে নিজেদেরকে সাজাতে হবে, এই পরিবর্তন দিয়েই প্রতিবিপ্লবের জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে।

কিন্তু কিভাবে ইসলামপন্থীরা বিজয়ীর কাতারে থাকবে যখন তারা বিরোধীদের মতই একই রকম পদ্ধতি ও নিয়ামক ব্যবহার করছে? বর্তমান সময়ে তো এই নিয়ামক গুলো ব্যবহার করা ছাড়া উপায়ও নেই। তো একই ধরণের স্ট্র্যাটেজি ব্যবহার করে সমতা অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু বিজয়ী হওয়া অন্য কিছু। যদিও লক্ষ্যার্জনের পন্থার সামঞ্জস্য আছে, তবুও ইসলামী বিপ্লব সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বদের এবং ভিন্নমানের পণ্য। পৃথিবীর বিপ্লবগুলো যখন বিপ্লব সাধনই একমাত্র লক্ষ্য স্থির করেছে, বিপ্লব সাধনের জন্য অন্যায় –অনাচারকে জায়েজ করেছে, সেক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লব অন্যায় সহ্য করতে পারে না, অনাচার এই বিপ্লবের গতিকে শ্লথ করে মাত্র। তাই বর্তমান সভ্যতার সাথে দ্বন্ধে টিকে থেকে আ’দল প্রতিষ্ঠা করতে গেলে স্বাভাবিক কার্যকরণের দ্বারা ইসলামী বিপ্লব অন্যান্য মতবাদের সাথে সংঘর্ষে জড়াবে।

ইসলাম এই ভূখন্ডে প্রায় সময় চতুর্মখী চাপে থাকে। বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন একটা পর্যায় অতিক্রম করে এসেছে। দাওয়াতী বই ও সামগ্রীর প্রাচুর্য এসেছে। এদেশের প্রায় প্রতিটি ঘরে ইসলামী হুকুমাত প্রতিষ্টার দাওয়াত পৌচেছে(পজেটিভ ও নেগেটিভ )। শিক্ষিত মধ্যব্ত্তিদের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের কাছে এটা পরিষ্কার যে, ইসলামী শাসনই সকল শান্তির মুল। এককথায়, মানুষের কাছে ইসলাম সম্পর্কে একটা বৈপ্লবিক ধারণা পৌছেছে।

এখন গুরত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এর চেয়ে উচ্চতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন এবং ইসলামী বিপ্লবকে পৌছানো। আর তাহচ্ছে, ইসলামকে সমাজের সর্বস্তরে বিজয়ী করা। চিন্তাগত বা দার্শনিক পরিমন্ডলে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ এবং বাস্তব জীবনে ইসলামী নীতি ও পদ্ধতির উপযোগিতা প্রমাণ করা।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে মূলত চার ধাপে। কয়েকটি ধাপের সংঞর্ষ চলমান, তবে পরিপূর্ণ যুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি।
অর্থনৈতিক যুদ্ধ, রাজনৈতিক যুদ্ধ, সংস্কৃতির যুদ্ধ ও সম্মুখ যুদ্ধ। চারটি যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য চিন্তাগত দর্শন ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ উভয়ই সমানতালে কার্যকর রাখা জরুরী।

  আধুনিক বিশ্বের বর্তমান প্রজন্ম, প্রাযুক্তিক প্রজন্ম। ইংরজিতে জেনারেশান C । এই প্রজন্ম সৃষ্টিশীল, এই প্রজন্ম আমুদে, এই প্রজন্ম কর্মচঞ্চল। একদিকে যেমন প্রযুক্তির ব্যবহার জীবনের নানাদিক সহজ ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করছে, অন্যদিকে প্রযুক্তিপন্য জীবনের দার্শনিক অবসর কেড়ে নিছ্ছে। রাষ্ট্র, সরকার, সমসাময়িক প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক ব্যাধি নিয়ে তাদের কোন ভাবনা নেই। প্রশ্ন করে দেখুন এসবের ব্যাপারে, একশব্দে এদের সবার উত্তর হবে‘ ****” । দুর্ভাগ্য হচ্ছে তরুনদের অগ্রজরাও তাদেরকে জীবন সম্পর্কে কোন ধারণা দিতে পারছেন না। মানুষ কি? সৃষ্টিজগতে মানুষের আবির্ভব কিভাবে? মানুষের সাথে তার চারপাশের পরিবেশের সম্পর্ক কি? মানুষের সাথে মানুষের পারস্পিক আচরণ কেমন হওয়া জরুরী? এসবনিয়ে কোন ধরণের ধারণা তরুণরা পাচ্ছে না।

 তাই বিপ্লবীদের সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরগুলোমানুষের সামনে পেশ করা। মৌলিক এই প্রশ্নগুলো সম্পর্কে ইসলাম কি উত্তর দেয় এ্ং অন্যান্য মতবাদরে সাথে  ইসলামের তুলনামূলক উত্তর বিপ্লবীদের মানব সম্প্রদায়ের সম্মুখে পেশ করতে হবে। ইসলামের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন এবং জীবনসম্পর্কিত অন্যান্য দার্শনিক মতবাদরে অসারতা ইসলামী দর্শনের কষ্টিপাথর দ্বারা যাচাই করে তুলে ধরতে হবে। এছাড়াও , বিপ্লবীদের আরেকটি কাজ আছে, তাহচ্ছে, নির্ভল উৎস হতে ইসলামের আকীদাগত জ্ঞান চিন্তাশীলদের সামনে পেশ করা।
 অন্যদিকে বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামী দর্শন এর ভিত্তিতে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখানো জরুরী। এই কাজটিই কষ্টসাধ্য। প্রচুর শ্রম দাবি করে। সর্বপ্রথম মানুষদের, বিশেষত

মুসলামানদেরকে মৌলিক ইবাদাত সমুহের প্রতি আকৃষ্ট করা জরুরী। পাড়ায়- মহল্লায় , পরিবারে এবং রাষ্ট্রীয় স্তরে নামায, রোজ যাকাত এবং পর্দার(নারী/পুরুষ উভয়ের জন্য শরীয়ত নির্ধারিত পর্দা)  প্রতি ‍উদ্বুদ্ধকরণের প্রক্রিয় গ্রহণ করা জরুরী। এই ইবাদাত গুলোর প্রতি ব্যক্তিজীবনে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে, এবং সংঘবদ্ধভাবে এই ইবাদাতগুলোর প্রতির দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে এটাই যে, মৌলিক ইবাদাত সমুহের প্রতি পূর্ণ সময় ও শ্রম দান করা। যাতে তাকওয়া অর্জিত হয়।

ইসলামী সমাজ বিনির্মিানের স্বপ্নদ্রষ্টাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে একটি শুদ্ধি আন্দোলন দাড় করানো। বাস্তব জীবনের নানামুখী সমস্যার ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমাধান পেশ করা জরুরী। বাস্তবজীবনের পাঁচটি অংশকে টার্গেট করে এগুলে সমাজের হুলিয়অ পরিবর্তন হতে বাধ্য। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে দুভাবে পরিশোধনের ব্যবস্থঅ করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষার বিপরীতে ইসলামী বিকল্প প্রদান ও বাস্তবজীবনে তার প্রয়োগ।
 মানবজীবনে পাঁচটি দিক অতীব গুরুত্ববহ। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা, পরিবার ও সমর বিদ্যা। কোন রাষ্ট্রের বা জাতির এই পাঁচটি নিয়ামকশক্তি জাতীয় শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ। জাতীয় সংহতি ও জাতীয় নীতির দৃড়তা এই পাঁচটি বিষয়ের উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। তাই বিপ্লবীদের করণীয় আবারো স্মরণ করিয়ে দেওয়া সমীচীন মনে করছি।
 অর্থনীতি
বর্তমান সময়ে অর্থনীতি অতীব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে, ব্যাখ্যা দীর্ঘায়ন নিস্প্রয়োজন। অর্থনীতি এখন আর ভোগ ও অভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা জীবনের প্রতিটি অংশকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা রাষ্ট্রের জন্য, এবং সমান্তরালে আদর্শিক সংগঠনগুলোর জন্য গুরুত্বের দাবি রাখে। কারণ মানুষের ধ্যান-ধারণা অর্থনীতি দ্বারা ম্যানিপুলেট হচ্ছে। তাছাড়া পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার কাটামো প্রায় ভেংগে পড়ার অবস্থা হওয়ায় বিকল্প ধাঁচের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। ইসলাম মানবতার সামনে সে বিকল্প ধাঁচের ব্যবস্থা তুলে ধরার সামর্থ্য রাখে। এজন্য জরুরী ইসলামের আলোকে অর্থব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস।
তাই
১. বর্তমান অর্থব্যবস্থার কোন কোন দিকগুলো ত্রুটিপূর্ণ তা চিহ্ণিত করা
২. বর্তমান মুদ্রাব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজন মেটাতে কতটা সক্ষম তার স্বরুপ উৎঘাটান
৩. অর্থব্যবস্থা ও মুদ্রাব্যবস্থায় কিরুপ পরিবর্তন আনলে মানুষকে ইসলামী কল্যাণমূলক অর্থব্যবস্থায় সম্পৃক করা যাবে ,তার ব্যাপারে বিস্তারিত ধারণা অর্জন করতে হবে।
   এছাড়াও আরো কয়েকটি ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অভাবপূরণের জন্য কাংখিত সম্পদের উৎস নির্ধারণ এবং যথাযথ সম্পদ বন্টনের জ্ঞান থাকতে হবে।
শিল্পায়ন ও নগরায়নের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরী।
রাজনীতি
অধুনা রাজনীতির ব্যাপারে চিন্তাধারা পরিবর্তিত হচ্ছে। রাজনীতি এখন আর শুধু সরকার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের জীবনধারা নিয়ন্ত্রণ, সংস্কৃতি , মানুষের জীবনে সার্ববৌমত্বের প্রশ্নে রাজনীতি জড়িত। সমাজে বিবাদমান বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় সাধন, ক্ষমতার সুষম বন্টন রাজনীতির বিষয়বস্তু। বিপ্লব- প্রতিবিপ্লবের অণূঘটকসমুঞ এবং এর সৃষ্টি ও প্রতিকারের পন্থা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রাখা রাজনীতির বিষয়বস্তু।
রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও স্বরাষ্ট্রনীতির স্বরুপ কেমন হওয়া উচিত তা রাজনীতির বিবেচ্য। এক কথায় নাগরিক জীবনের সকল কর্মকান্ড রাজনৈতিক পরিধির অন্তর্ভূক্ত। তাই, রাজনীতিকে নিছক ক্ষমতা লাভের পন্থা হিসেবে বিবেচনা করা ভুল, আরো ভূল হবে যদি সেটাকে ভোটকেন্দ্রিক চিন্তায় সীমাব্দ্ধ রাখলে। যেহেতু আল্লাহর সার্বভৌমত্ব কায়েম একনম্বর প্রায়োরিটি, সেহেতু রাজনীতিকে, জানতে হবে এই সমস্ত দৃষ্টিকোণ থেকে। এবং রাজনীতিকে মোয়ামালাতের একটা পর্যায় হিসেবে চিন্তা করতে হবে। এবং মোয়ামালাতের শরয়ী দৃষ্টিভংগির বাস্তব প্রয়োগে যত্নশীল হতে হবে।
এই দুটো হচ্ছে মুখ্য বিষয় যেগুলোকে আবর্তিত করে বাকি তিনটা চলবে। পরিবার , সমাজ এবং সমর। যদি আগের দুটোর ব্যাপারে কন্সেপ্ট স্পষ্ট করা যায় তাহলে, বাকিগুলো সে দর্শনের উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা যাবে।
 সর্বশেষ , ফি সাবিলিল্লাহ ফ্রেইজটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে। যা কিচু করি না কেন, পৃথিবীর পরে আখেরাতের জন্যই করছি। দুনিয়া সুন্দর করার চিন্তায় আখেরাত বাদ দিয়ে দিলাম, তাহলে দুটোই হারাতে হবে। তাই নতুন করে চিন্তা করুন। 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s