রামাদান! কি দোয়া করবেন?

 পর্বসমুহ :: প্রথম পর্ব :: দ্বিতীয় পর্ব ::  তৃতীয় পর্ব :: চতুর্থ পর্ব :: বোনাস

সুপ্রিয় ভাইবোনেরা আর মাত্র একটা দিন পরে রামাদান আমাদের সামনে উপস্থিত হবে। শয়তান অলরেডি চিন্তায় পড়ে গিয়েছে, কিভাবে সে রামাদানের সুদীর্ঘ এই একমাস বন্দী অবস্থায় কাটাবে? শয়তান তো শয়তানির জন্য চিন্তিত, আর আমরা খুশী সে বন্দী থাকবে , এই জন্য।
 বিগত লেখাগুলোতে আমরা রামাদানের জন্য পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং পদ্ধতি অনুশীলন সম্পর্কে জেনেছি। “উদ্দেশ্য যখন একটি রামাদান” এই সিরিজটা মূলত “Aiming an Awesome Ramadan” এর রুপান্তর। এই সিরিজটা আমার কাছে অসম্ভব ভালো মনে হয়েছে, তাই এটার রুপান্তরের কাজে হাত দিই। আমার ভাষাজ্ঞান স্বল্পতাজনিত অযোগ্যতার কারণে এই রুপান্তরটার প্রতি হয়তে যথেষ্ট ন্যায়বিচার করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তবে আমার নিয়্যত ছিলো যে এই রামাদানে একটা চমৎকার , প্রডাক্টিভ সময় জেনো আমরা সবাই কাটাতে পারি,(বিশেষত আমার নিজের জন্য) সেজন্য এই মাইলস্টোন সবার সামনে পেশ করা। কতটুকু সফল হয়েছি, আল্লাহু আ’লাম। তবে এই লেখার চতুর্থ পর্বে কয়েকজন ভাই বোন অনুরোধ করেছিলেন, যেনো আমি দোয়াগুলোর একটা তালিকা সবার সামনে উপস্থাপন করি। কাজটা কষ্টসাধ্য হওয়ার মুল কারণ হচ্ছে আমার জ্ঞানগত স্বল্পতা। আমরা এমন একটা দ্বীন নিয়ে আলোচনা করি, এ্মন একটি দ্বীন প্রচার করি যেটা সম্পর্কে , একথা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, ইসলামের বিস্তৃতি এতো অধিক যে , তাতে যদি কেউ ডুব দেন তাহলে তিনি তলিয়ে যাবেন। এই বিশালতার সামনে আমার অযোগ্য স্বত্তা খু্বই নগণ্য। এই চলার পথে আমি সবার কাছ থেকে শিখছি, সবকিছু থেকে শিখছি। ইমাম গাযালীর মতে“ জ্ঞান প্রত্যেক মানুষের অন্তরে সুপ্ত থাকে, যেমনভাবে মাটির অন্ধকারে বীজ সুপ্ত থাকে। শেখার মাধ্যমে জ্ঞান প্রকৃত রুপ লাভ করে” ।
 দোয়া কেন? কার জন্য?
মানুষকে আল্লাহ তায়ালা স্বাভাবিক ভাবে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। সোজা কথায় , আল্লাহ সুবহানা ওয়া তায়ালা মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যটা একেবারে কুরআনের শুরুর দিকে ব্যাখ্যা করেছেন

وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ [٢:٣٠]

আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।
অন্য জায়গায় , আল্লাহ পাক বলেছেন[বাকারাঃ৩০]

وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلَائِفَ الْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ لِّيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ ۗ إِنَّ رَبَّكَ سَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ [٦:١٦٥]

তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।[আনআমঃ১৬৫]

মানে হলো মানুষ আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। এখন আমাদের সমগ্র জীবনটাও এই খেলাফতের দায়িত্বের উপর পরিচালনা করাটা জরুরী। আরো জরুরী, নিজেদেরকে সে অনুসারে গড়ে তোলার জন্য যোগ্যতা সৃষ্টি এবং দক্ষতা অর্জন। তাই আমাদের সমগ্র কাজকর্ম এই উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি সম্পন্ন করা উচিত। যদি না করি তাতে আল্লাহর কোন ক্ষতি হবে কারণ তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। আমরা যদি আমাদের এই দায়িত্ব পালন না করি তাহলে তিনি আমাদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য আমাদেরকে অন্য কোন সম্প্রদায় দ্বারা স্থলাভিষিক্ত করবেন। আল্লাহ পাক এরশাদ করেন,

وَرَبُّكَ الْغَنِيُّ ذُو الرَّحْمَةِ ۚ إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَسْتَخْلِفْ مِن بَعْدِكُم مَّا يَشَاءُ كَمَا أَنشَأَكُم مِّن ذُرِّيَّةِ قَوْمٍ آخَرِينَ [٦:١٣٣]

আপনার প্রতিপালক অমুখাপেক্ষী, করুণাময়। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে উচ্ছেদ করে দিবেন এবং তোমাদের পর যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলে অভিষিক্ত করবেন; যেমন তোমাদেরকে অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে সৃষ্টি করেছেন।[আনআমঃ১৩৩]

তাই আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া চাওয়ার সময় এই ব্যাপারটাই সর্বপ্রথম মনে রাখবো, এবং আমাদের দোয়াগুলোও এই উদ্দেশ্যে সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সাজাবো।

আমরা আল্লাহর কাছে কেন দোয়া চাইবো?

মোটামুটিভাবে আমরা আল্লাহর কাছে চারটি কারণে দোয়া চাই
১. আল্লাহর মহিমা প্রকাশ
২. আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা
৩, আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা
৪. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা
আমাদের দোয়াগুলো মোটামুটি এই গুলোর উপর ভিত্তি করে আবর্তণ করে। আমরা এইগুলো ব্যাখ্যা করবো ইনশাআল্লাহ।

১. আল্লাহর মহিমা প্রকাশ
আল্লাহর মহিমা প্রকাশের তিনটি দিক।

  • আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

আপনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে কখনও শেষ করতে পারবেন  না, আপনার চারপাশের পরিবেশ, আনার মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান সন্ততি, আপনার সম্পদ ,ক্ষমতা, সম্মান, মর্যাদা সবই আল্লাহর দান। আপনি নিজের দিকে তাকিয়ে দেখনু আল্লাহ তায়ালা আপানাকে কতো নিয়ামত দান করেছেন? রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষদের চেয়েও তিনি আপনাকে ভালো রেখেছেন, তিনি আপনাকে খাবার দিয়েছেন, থাকার আশ্রয় দিয়েছেন। আপনার আশপাশের শারিরিীক প্রতিবন্দী মানুষের দিকে খেয়াল করুন। আল্লাহ আপনাকে , শরীরের অঙ্গগুলোর পূর্ণতার নেয়ামত দিয়েছেন। তিনি আপনাকে চোখ দিয়েছেন দেখার জন্য, কান দিয়েছেন শুনার জন্য, জিহ্বা দিয়েছে স্বাদ নেয়ার জন্য, হাত দিয়েছেন ধরার জন্য, পা দিয়েছেন চলার জন্য। তিনি আপনাকে মানসিক স্থিতি দিয়েছেন , চিন্তা করার জন্য। এতো সব নিয়ামত পাওয়ার পরেও যদি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করি তাহলে নিশ্চিত আমরা রাসুল স. কে অনুসরণ করলাম না। তিঁনি এমন ব্যক্তি যার আগের , পরের সকল গুণাহ মাফ করে দেওয়ার পরেও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাও আণ্তরিকতার সাথে, সার্বক্ষণিক।
এজন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞার জন্য আপনি দোয়া করতে পারেন

….اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [٣:٢٦]

বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।[আলে ইমরানঃ২৬]

هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ ۚ يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ [٥٩:٢٤]

তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।[তাওবাঃ৬৪]

………الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ ۖ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ۖ وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ [٧:٤٣]

…………………….. আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।[আরাফঃ৪৩]

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ [٢٧:١٩]

হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমাকে সামর্থ দাও যাতে আমি তোমার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছ এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে তোমার সৎকর্মপরায়ন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।[নামলঃ১৯]

  • আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ

আপনার চারপাশে চোখ ফিরিয়ে দেখুন। প্রকৃতির সুশৃংখলতার দিকে খেয়াল করুন । আপনার নিজের জীবনের দিকে খেয়াল করুন। এমন কোন একটা মুহুর্তও কি গিয়েছে, যখন প্রকৃতির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে?
কিন্তু কে , কোন সে স্বত্তা এই বিশ্বকে সুচারুরুপে পরিচালনার আদেশ দিয়ে দিয়েছেন? কোন সে স্বত্তা যে আপনাকে রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন?
নিশ্চয় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস প্রকাশের জন্য, পড়তে পারেন।

إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ [١١:٥٦]

আমি আল্লাহর উপর নিশ্চিত ভরসা করেছি যিনি আমার এবং তোমাদের পরওয়ারদেগার। পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নাই যা তাঁর র্পূণ আয়ত্তাধীন নয়। আমার পালকর্তার সরল পথে সন্দেহ নেই।[হুদঃ৫৬]

…… هُوَ الرَّحْمَٰنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ [٦٧:٢٩]

…………., তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ-ভ্রষ্টতায় আছে।[মুলকঃ২৯]

  • আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষীতা প্রকাশ

মাঝে মাঝে আমাদের জীবনে এমন একটা মুহূর্ত আসে যখন সামনে চলাটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। মনে হয়,যে কদমটা তুলেছিলাম সেটা ফেলার মতো আর কোন জায়গা নেই। সকাল থেকে সবকিছু পরিপাটি করছেন, সাড়ে আট টার ট্রেনটা ধরতে হবে, গতকাল থেকে যাবতীয় চেকলিস্ট ঠিক করে ফেলেছেন। ট্রেন ছাড়ার ২ ঘন্টা আগে বাড়ি থেকে বের হলেন, অন্যান্য দিন যে রাস্তায় জ্যাম লেগে থাকে, সে রাস্তা দিয়ে না গিয়ে অন্য আরেকা রাস্তা ধরলেন। স্টেশন আসার আধঘন্টাখানেক আগে দেখলেন রাস্তার উপর বিশাল একটা ট্রাক আড়াআড়ি ভাবে পড়ে আছে। তখন কি করবেন?
পরীক্ষার জন্য ধুমিয়ে প্রস্তুতি নিলেন , দুইদিন আগে থেকেই রিভিশন দেওয়া শুরু করেছেন। পরীক্ষার আগের রাতে দেখা গেল যে আপনি খুব সন্তুষ্ট মনে এক গ্লাস দুধ খেয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। সকালে উঠে দেখলেন, আপনার ডান হাতের আংগুলটা ফুলে গিয়েছে। রাত্রে ঘুমের ঘোরে হয়তো কোন বিষাক্ত পোকা কামড়ে দিয়েছে। এখন ব্যথায় আপনি অস্থির । তখন কি করবেন?
জীবনের প্রথম এবং শেষে, জীবনের যবনিকায়।আপনার দৈনন্দিন জীবনের চলার সময়, আপনার সাস্থ্য , আপনার পেমা, আপনার পরিবার মোটকথা এমন কোন একটা অংশ নেই যেটা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী নয়।
তাই আপনার উচিত আল্লাহর প্রতি আপনার মুখাপেক্ষীতার আন্তরিক স্বীকৃতি প্রদান।

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ [٦:٧٩]

আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।[আনআমঃ৭৯]

……اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِي مَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ [٣٩:٤٦]

………… হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত[যুমারঃ৪৬]।

اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَن تَشَاءُ وَتَنزِعُ الْمُلْكَ مِمَّن تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَن تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَن تَشَاءُ ۖ بِيَدِكَ الْخَيْرُ ۖ إِنَّكَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ [٣:٢٦]

………….. ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।[আলে ইমরানঃ ২৬]

২.আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা
মোটামুটিভাবে আমাদের জীবনের চাহিদাগুলো হচ্ছে সাস্থ্য , ধন, শিক্ষা , স্ত্রী/স্বামী, সন্তান-সন্ততি, পিতামাতার সুস্থতা কেন্দ্রিক। আমাদের চাহিদা গুলো এই কয়েকটা জিনিসের জন্য বেশি হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর কাছে চাইতে পারেন এই সমস্ত জিনিসের জন্য। সাহায্য প্রার্থনা করতে পারেন এই জিনিসগুলো লাভের জন্য।

  • পিতামাতার জন্য দোয়া করতে পারেন
……………….رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا [١٧:٢٤]

………………… হে পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।[ইসরাঃ২৪]

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ [١٤:٤١]

হে আমাদের পালনকর্তা, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব কায়েম হবে।[ইবরাহিমঃ৪১]

…….رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ [٤٦:١٥] …………..,

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।[জাছিয়াঃ১৫]

  • সৎ এবং নেককার জীবন সঙ্গী লাভের জন্য দোয়া করতে পারেন
سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ [٣٦:٣٦]

পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।[ইয়াছীনঃ৩৬]

…….رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا [٢٥:٧٤]

………. হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ কর।[ফুরকানঃ৭৪]

  • সন্তান সন্ততির জন্য দোয়া
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ [٣٧:١٠٠]

হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎসন্তান দান কর।[সাফফাতঃ১০০]

هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ [٣:٣٨]

……….., হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।[আলে ইমরানঃ৩৮]

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ [١٤:٤٠]

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া।[ইব্রাহীমঃ৪০]

  • জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া।
رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا [٢٠:١١٤]

হে আমার পালনকর্তা, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।[ত্বা-হাঃ১১৪]

رَبِّ هَبْ لِي حُكْمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ [٢٦:٨٣]

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর।[আশ শুআরাঃ৮৩]

  • ধন সম্পদ প্রাপ্তি/বৃদ্ধির জন্য দোয়া
مَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ مِّنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ ۚ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ [٦٢:١١]

আল্লাহর কাছে যা আছে, তা ক্রীড়াকৌতুক ও ব্যবসায় অপেক্ষা উৎকৃষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা।[জুমআঃ১১]

إِنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ [٣:٧٣]

মর্যাদা আল্লাহরই হাতে; তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।[আলে ইমরানঃ৭৩]

رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ [٥:١١٤]

হে আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।[আল মায়েদাঃ১১৪]

  • ঋণহতে মুক্তির জন্য
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

হে আল্লাহ! তুমি তোমার হারাম বস্তু হতে বাঁছিয়ে তোমার হালাল রিযিক দ্বারা আমাকে পরিতুষ্ট করে দাও। হালাল রুযিই যেনো আমার জন্য যথেষ্ট হয় এবয় হারামের দিকে যাওয়ার প্রযোজন ও প্রবণতাবোধ না করি।। এবং তোমার অনুগ্রহ দ্বার তুমি ভিন্ন অন্য সকল হতে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও। তিরমীযী ৫/৫৬০

اللّهُـمَّ إِنِّي أَعْوذُ بِكَ مِنَ الهَـمِّ وَ الْحُـزْنِ، والعًجْـزِ والكَسَلِ والبُخْـلِ والجُـبْنِ، وضَلْـعِ الـدَّيْنِ وغَلَبَـةِ الرِّجال

হে আল্লাহ ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি চিন্তা ভাবনা কাপুরুষতা থেকে, অধিক ঋণ থেকে ও দুষ্ট লোকের প্রাধান্য থেকে। ফতহুল বারী ৭/১৫৮
৩.আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা

  • শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে
  1. শয়তান এবং তার কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচারজন্য ওজু করে দু রাকাআত নামায পড়তে পারেন। এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন। অর্থাৎ আউযুবিল্লাহ পড়তে পারেন।
  2. শয়তান থেকে বাঁচার আরেবটি উপায় হলো আযান দেওয়া
  3. কোরআন তেলাওয়াত

এছাড়া নিম্নের দোয়াটিও পড়তে পারেন।

رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ [٢٣:٩٧]

হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি

أَعُوذُ بكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ ولَا فَاجرٌ مِنْ شّرِّ مَا خَلقَ، وبَرَأَ وذَرَأَ، ومِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وِمنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فيهَا، ومِن شَرِّ مَا ذَرَأَ في الأَرْضِ ومِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وِمنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ والنَّهارِ، ومِنْ شَرِّ كُلِّ طارِقٍ إِلَّا طَارِقاً يَطْرُقُ بخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ

আল্লাহর ঐ সকল পূর্ণ কথার সাহায্যে আমি আশ্রয় চাই যা কোন সৎলোক বা অসৎ লোক অতিক্রম করতে পারে না, ঐ সকল বস্তু হতে যা আল্লাহ নিকৃষ।ট বস্তুর অনিষ্ট থেকে ‍ৃষ্টি করেছেণ। যা আকাশ হতে নেমে আসে এবং যা আকাশে চড়ে আর যা পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেম পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসে। এং দিন রাতের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই, তবে কলাণীর পথিক ছাড়া হে দয়াময়। আহমদ ৩/৪১৯

  • বিপদ ও দুশ্চিনতায় দোয়া
لَّا إِلَٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ [٢١:٨٧]

তুমি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তুমি নির্দোষ আমি গুনাহগার।

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ [٢:٢٨٦]

হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।[বাকারাঃ২৮৬]

اللّهُـمَّ إِنِّي عَبْـدُكَ ابْنُ عَبْـدِكَ ابْنُ أَمَتِـكَ نَاصِيَتِي بِيَـدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤكَ أَسْأَلُـكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّـيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أِوْ أَنْزَلْتَـهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْـتَهُ أَحَداً مِنْ خَلْقِـكَ أَوِ اسْتَـأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الغَيْـبِ عِنْـدَكَ أَنْ تَجْـعَلَ القُرْآنَ رَبِيـعَ قَلْبِـي، وَنورَ صَـدْرِي وجَلَاءَ حُـزْنِي وذَهَابَ هَمِّـي

হে আল্লাহ! আমি তোমার বান্দা, তোমারই এক বান্দার পুত্র আর এক বান্দীর পুত্র। আমার ভাগ্য তোমার হস্তে আমার উপর তোমার নির্দেশ কার্যকর, আমার প্রতি তোমার ফংসালা ইনসাফের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত, আমি সেই সমস্ত নামের বদৌলতেযে নাম তুমি নিজের জন্য নিয়েছে অথবা তোমার যে নাম তোমার কিতাবে নায়িল করেছো অথবা তোমার সৃষ্ট জীবের মধ্যে কাহাকেও যে নাম লিখিয়ে দিয়েছো অথবা স্বীয় ইলমের ভান্ডারে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছো, তোমার নিকট এই কাতর প্রার্থনা জানাই যে, তুমি কুরআন মজীদকে বানিয়ে দাও আমার হৃদয়ের প্রশানিত, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার জিন্তা-ভাবনার অপসারণকারী এবং উদ্বেগ উৎকণ।ঠার বিদূরণকারী।বায়হাকী ২/২১১

اللّهُـمَّ إِنِّي أَعْوذُ بِكَ مِنَ الهَـمِّ وَ الْحُـزْنِ، والعًجْـزِ والكَسَلِ والبُخْـلِ والجُـبْنِ، وضَلْـعِ الـدَّيْنِ وغَلَبَـةِ الرِّجال

হে আল্লাহ আমি তোমর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি চিন্তা ভাবনা অপরাগতা অলসতা কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে, অধিক ঋণ থেকে ও দুষ্ট লোকের প্রাধান্য থেকে। ফতহুল বারী ৭/১৫৮

  • রোগ , জ্বরা বার্ধক্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
اللّهُـمَّ إِنِّـي أَعوذُ بِكَ مِنَ البُخْـل، وَأَعوذُ بِكَ مِنَ الجُـبْن، وَأَعوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلى أَرْذَلِ الـعُمُر، وَأََعوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَـةِ الدُّنْـيا وَعَـذابِ القَـبْر

হে আল্লাহ আমি আশ্র চাচ্ছি, কার্পণ্য হতে, আশ্রয়  চাচ্ছি কাপুরুষতা হতে, আর আশ্রয় চাচ্ছি বার্ধক্যের চরম দুৎখ কষ্ট থেকে, দুনিয়ার ফিতনা ফাসাদ ও কবরের আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি। ফতহুল বারী ৬/৩৫

  • শত্রুর বিপদ হতে আশ্রয় প্রার্থনা

শত্রু এবং শক্তিধর ব্যক্তির অত্যাচারের আশংকায় এই দোয়াটা পড়া যায়।

اللّهُـمَّ إِنا نَجْـعَلُكَ في نُحـورِهِـم، وَنَعـوذُ بِكَ مِنْ شُرورِهـمْ

হে আল্লাহ! আমি শত্রুদের শত্রুতা ও তাদের ক্ষতিসাধনের মুকাবিলায় তোমাকে স্থাপন করছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।আবুদাউদ২/৮৯

حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿آل‌عمران: ١٧٣﴾

আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; কতই না চমৎকার কামিয়াবীদানকারী।[আলে ইমরাঃ ১৭৩]

اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَاب, سَرِيعَ الْحِسَاب, اللَّهُمَّ اهْزِمْهُمْ وَ زَلْزِلْهُم

হে আল্লাহ! কিতাব নাযিলকারী, ত্বড়িত হিসাব গ্রহণকারী, শত্রুবাহিনীকে পরাজিত ও প্রতিহত করো, তাদেরকে দমন ও পরাজিত করো, তাদের মধ্যে কম্পন সৃষি।ট করে দাও।মুসলিম ৩/১৩৬২
৪.আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إلَّا هُوَ الحَيُّ القَيّوُمُ وأَتُوبُ إِلَيهِ

আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন মাবুদ নেই। তিনিই চিরঞ্জীব সদা বিরাজমান, আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি। আবু দাউদ২/৮৫

সুপ্রিয় ভাই বোনেরা লেখার কলেরবটা বড় হয়ে গেলো। তাই এখানেই শেষ করছি। আর শেষ করার আগে একটা পরামর্শ দিতে মন আকুল হয়ে উঠেছে। আর তাহলো , কুরআনেএবং সহীহ হাদীস থেকে বাছাইকৃত একটা দোয়ার বই, যেটা পকেট সাইজ, আপনাদের জন্য খুব কাজে আসবে আশা করি। সেটা হচ্ছে “হিসনুল মুসলিম” । বইটা সৌদি সরকারের ইসলঅমী গবেষণা ও ফতওয়া অধিদপ্তর থেকে আরবীতে প্রকাশিত হয়েছে। বইটি বাংলা, ইংরেজি, ফরাসী, ফিলিপাইনী ও হিন্দী ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। বাংলায় অনুবাদ করেছেন মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা এনামুল হক সাহেবকে। বইটি আমার হাতে এসেছিলো যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি , আল বয়ান ইনস্টিটিউটের ছাত্র হিসেবে আল বয়ান ফাউন্ডেশনের পক্ষে উপহার হিসেবে। ২০১১ সালে ঢাকায় বেশ কিছু ইসলামী বইয়ের দোকানে বইটার বাণিজ্যিক কপি দেখতে পাই। আশা করি আপনারা পেয়ে যাবেন। আর যদি না পান তাহলে তাদের জন্য পিডিএফ লিংকটা দিয়ে দিলাম। ডাউনলোড করে নিতে পারেন। পোস্টটা শেয়ার করুন আর আমাকে সদকায়ে জারীয়ায় শরীক করুন। ফি আমানিল্লাহ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s