পাখি


জীবনের সাধারণ কিছু জিনিসই অসাধারণ হয়ে যাই, যখন আপনি সেটা লিখে ফেলেন। প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় পথের পাশে বসে থাকা পাগলটা আপনার কাছে ‍খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। কিন্তু সে ভিক্ষুকটাকে আপনি আপনার লেখায় নিয়ে আসুন, দেখবেন তার সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আপনার হাতে চলে আসবে যেটা আপনি এতোদিন খেয়ালও করেননি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার একটা বড় নিয়ামত হচ্ছে লেখনী।আপনার লেখার মান নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট না হতে পারেন , অথবা নিজের লেখা পড়ে নিজেকে ক্ষ্যাত মনে হতে পারে, হতে পারে আপনার চারপাশের পরিবেশ আপনার লেখাটার কারণে এমন সমালোচনায় ফেলবে, যেটা জবাব দেওয়ার মতো শক্তি আপনার থাকবে না। সমস্যা নেই লিখে যান। মাথায় রাখতে হতে , সমালোচনাটাও একটা আলোচনা। হোক না সেটা খারাপ, অপ্রিয় কিন্তু আপনাকে নিয়ে লোকজন ভাবছে তো! আপনি মানুষের চিন্তাজগতে নাড়া দিতে পেরেছেন। পানসে এই সমাজটাকে আপনি হঠাৎ করে একটা ধাক্কা দিয়েছেন। রোবটমার্কা মানুষগুলোকে আপনি চিন্তা করতে শিখিয়েছেন, আসলেই আপনি ঠিক কিনা, বেঠিক হলে , কেন বেঠিক?
 যাই হোক, একটা গল্প বলি আপনাদের,
বিশাল একটা বনে হরেক রকম পাখি থাকতো। লাল , নীল ,হলুদ , সবুজ আর বাহারি রঙ্গের পাখিগুলো , সারাদিন কিচির মিচির, টিঁউট টিঁউট, কুহু কুহু করে ডাকতো আর বনটাকে জীবন্ত রাখতো। পাখিদের এই ছুটোছুটি মানুষের মনকে শান্ত করতো। হয়তো কারো অতি প্রিয়জন মারা গিয়েছে , সে বণে গিয়ে পাখিদের সাথে সময় কাটাতো। পাখিরা তাঁর দুঃখে গান গাইতো, তার ব্যথার সমব্যথী হতো, তার সকল দুঃখের ভাগীদার হতো। অথবা প্রিয়ার বিচ্ছেদে কোন প্রেমিক ,যার কাছে দুনিয়ায় বেচেঁ থাকাটা অসার মনে হতো বনের পাখিরা তাকে জীবনে বেঁচে থাকার পথ দেখাতো। ছোট ছোট বাচ্চারা পাখিদের সাথে খেলতো, নাচঁতো, গাইতো! পাখিরা তাদের শৈশবকে স্বপ্নীল করে তুলতো।
 দিন গড়াতে থাকলো, মানুষের চাহিদাও বাড়তে থাকলো। মানুষ সরকার বানালো। রাজা বানালো। রাজার খায়েশ হলো তার রাজ্যে উন্নতির জোয়ার বইয়ে দিতে হবে। নতুন শহর বানাতে হবে। জায়গা খোজাখুজির পরে বিশাল বনের জায়গাটা রাজার পছন্দ হলো। রাজার আদেশে বনের বড় বড় গাছগুলো কেটে ফেলা হলো। জায়গা সাফ করা হলো। বড় বড় অট্টালিকা গড়ে উঠতে থাকলো। মানুষ মনে করলো তাদের উন্নতি হচ্ছে। একদিন ধুসর রঙ্গের একটা চকমকে শহর তৈরী হয়ে গেলো। শহরের উদ্বোধন হলো। কিন্তু কোন গান হলো না, কোন রংয়ের ছড়াছড়ি হলো না। হবে কোত্থেকে? পাকিরা তো চলে গিয়েছে। পাখিদের বসবাস তো ছিলো ঐ উচু গাছে। এখন পাখিগুলো সব হারিয়ে গিয়েছে। এখন আর কেউ তার ‍দুঃখ ভোলাতে পারেনা, এখন কারো শৈশব আর স্বপ্নীল হয় না, এখন প্রিয়ার বিরহে প্রেমিকরা মরেই যায়, পাগল হয়।
   আমি সেই পাখিগুলোকে খুজছি। আমি নিশ্চিত যে পাখিগুলো ফিরে আসবে।আমি যদি তাদের খোজেও না পায় তাহলে তাদের জন্য অন্তত একটা বাঁসা বানাবো, অনেক উচুঁতে। অনেক উচুঁতে!
#বিপ্লব
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s