দূর ছাই।

দূর ছাই! সকালটাই মাটি হয়ে গেলো। ফজরের পরে কতো সুন্দর বৃষ্টি, কোথায় একটু কম্বল জড়িয়ে ঘুমাবো, তা না, বেরসিক কারেন্ট চলে গেলো। এপাশ ওপাশ করে গড়াগড়ি দেই কিন্তু কোন কাজ হলো না। অগত্যা বিছানা ছেড়ে উঠলাম , উঠোনে গিয়ে দাড়াতেই চোখ তো চড়কগাছ। ওমা ! একি ! আবারও ছাই!
বাস্তবিক! সত্যি বলছি! হ্যা, ছাই। আম্মা গতকালকে ময়লায় আগুন দিয়েছেন। সেই ছাই।
এই ছাই জিনিসটা অদ্ভূত তাইনা। যদিও ছাই আমরা কেউ চাই না। কিন্তু এই মুহুর্তে দুইটা লাইন তো খুব বেশি মনে পড়ছে।
“যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিবে তাই
পাইলেও পাইতে পারো অমূল্য রতন।”
জিন্দেগীতে এই লাইনকটা পড়ে কেউ ছাই উড়িয়েছেন কিনা আমার জানা নাই। বিশেষ করে আমাদের মতো ছাই-পাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ছাই-পাশ কলেজের ছাত্ররা যে উড়ায়নি এটা নিশ্চিত। বড্ড বেখাপ্পা কয়েকটা লাইন। এই কবিগুলোর খেয়েদেয়ে কোন কাজ নাই। কি অদ্ভূত কিছু কথা বলবে! দূর ছাই।
আমার ইন্টারমিডিয়েট জীবনের অনেক বন্ধু এখন অনার্স শেষ করে চাকুরী খোঁজছে। খুব ভালো ছাত্র অনেকে। অন্তত আমার চেয়েও তো বেশি। দেখা হলেই জিজ্ঞেস করি, কি করছে, মাস্টার্স করবে কিনা, চাকরি-বাকরি, বিয়ে-শাদী।খুব কম সংখ্যক সন্তোষজনক জবাব দেয়। কেউ প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যায়। আমিও চুপ করে থাকি। বেশি কথা বাড়ায় না। যায় হোক আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা তো ছাই। আমাদের মাঝে কস্মিন কালেও রতন পাওয়া যাবে না।
তবে একটা জিনিস হয়তো পাওয়া যেতে পারে। দূর ছাই! আবারো একটা লাইন মনে পড়ে গেলো।
‘ছাইচাপা আগুন’। হ্যা ওটাই। আমাদের মাঝে এটা কিন্তু খুব বেশী পরিমাণে আছে।
দিনে দিনে জমে থাকা হতাশা, বন্ধুদের কৃত্রিম আনন্দের, কৃত্রিম সাফল্য দেখে জন্ম নেওয়া দীর্ঘশ্বাস। আমাদের বুক চিরে দেখলে আগুন পাওয়া যাবে। ছাইচাপা আগুন।
পড়াশোনার প্রতি দারুণ অনীহা, ক্লাসে অনুপস্থিতি, স্যারদের টিটকারি, পরীক্ষার হলে পরিদর্শকদের ত্যাড়ামি। আমাদের বুকের আগুনকে আরো বাড়ায়।
তবে, ভ্রাতা-ভগিনী। জীবন কি এই বিশ্ববিদ্যালয় আর কলেজ কতো বড় হলো সেটা কেন্দ্রীক? জানতে খুব ইচ্ছা করে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের সবাই কি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে? আমি এটা বলছি না যে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য চেষ্টা করা যাবে না, অথবা ওরা আমাদের চেয়ে খারাপ। বরং আমি এটা বলছি যে, ওরা আমাদের চেয়ে অনেক গুণ ভালো ছাত্র , তবুও ওদের অনেকেই তো জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। আমার ফেন্ডলিস্টে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী অনেক।আমার সিনিয়রদের অনেকের ক্যারিয়ার দেখলে ঈর্ষা লাগে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এত্তো কিছু কেমনে করলো?
যায় বলেন না কেন, আমাদের অগ্রজরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে বিশ্ববিদ্যালয় কোন বড় কিছু না। বড় হলো GEL খাওয়া। GEL মাথায় যেটা দেয় সেটা না। অথবা ক্লোজআপ GEL ও না। এই GEL হলো Good Experiecne of Life. জীবন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাগুলো ঝালাই করে নেন।
কখন যে নিজেই একটা রতন হয়ে যাবেন , বুঝতেই পারবেন না।
ফি আমানিল্লাহ।
Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s