ব্ল্যাসফেমি আইনের দরকার নেই

আশ্চর্য হবেন না,  আমি সত্যিই এটা বলছি। কেন, ব্যাখ্যা করার আগে অন্য একটা টপিক নিয়ে আলোচনা করি। ফ্রিডম অফ স্পীচ। ইসলাম কি ফিডম অফ স্পিচ সাপোর্ট করে? ইসলাম কি নবীজির (স) ইনসাল্ট (নাউযুবিল্লাহ) সাপোর্ট করে?
প্রশ্ন দুইটা, কমন সেন্স উত্তরও দুইটা।
ফার্স্ট অফ অল, যে যাই বলুক না কেন, ইসলাম ফ্রিডম অফ স্পিচ সাপোর্ট করে। কোরআনে অসংখ্য আয়াত আছে যেখানে কোরআন চ্যালেঞ্জ করেছে, কোরআনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে, তারপরও কোনরকম ভুল পাওয়া যায় কিনা চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে। আপনি আপনার মতামত প্রকাশে পরিপুর্ণ স্বাধীন। আর এই মতপ্রকাশ এর স্বাধীনতাকে ইতিবাচকতা দিতে ইসলাম কয়েকটা নীতি জানান দেয়। আর যেহেতু কোরআন নিজেই ঘোষণা করে এটা বিশ্ব মানবতার জন্য হেদায়াত স্বরুপ। তখন মতপ্রকাশ নিয়ে এটা বলে কি, দেখি।

*”হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।” (৩৩:৭০)
*”আমার বান্দাদেরকে বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে। শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধায়। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।” (১৭:৫৩)
*”যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী।” (২:৮২)
*” আল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারো প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।” (৪:১৪৮)
 
মানে কী বুঝলাম? বুঝলাম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে ইসলামের নীতিগুলো ইতিবাচক। আর এটা বৃহত্তর কল্যাণের জন্য পারফেক্ট । সো, এখন এই মতপ্রকাশের দোহাই দিয়ে নবীজীকে অপমান করলেন, অথবা কোন ব্যক্তি (মনে করি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবর রহমান অথবা মেজর জেনারেল জিয়া অথবা যেকোন একজন মানুষ), বংশ ( যেকোন বংশই), ধর্ম( ইসলাম, হিন্দুত্ব, বৌদ্ধ ধর্ম অথবা খ্রিস্টবাদ)  গোত্র, দল(সামাজিক, রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক) অথবা নির্দিষ্ট কোন মতবাদকে যদি অযোক্তিকভাবে,  শুধুমাত্র বিদ্বেষ বশত সমালোচনা করা ফ্রিডম অফ স্পীচ হতে পারে না।
এটা যদি কোন সহিংসতা উস্কে দেয় তাহলে সেটা ক্রিমিনাল স্পীচ।
আর নয়ত হেইট স্পীচ।
বাংলাদেশের সংবিধান আর দণ্ডবিধিতে এই ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। অভিযোগ প্রমাণে সাজার ব্যবস্থা আছে।
সো, রিডার্স, প্রশ্ন থাকার অবকাশ নাই। মুক্তবুদ্ধির চর্চা নামে যত চটকদার, কাজে তার উল্টা। ফ্রিডম অফ স্পীচের কথা বলে কিন্তু এরা হেইট স্পীচ আর ক্রিমিনাল স্পীচই ছড়াচ্ছে।
ব্লগার নামটা কলংকিত করে দিলো, আমাদের এখন বলতে হচ্ছে অনলাইন এক্টিভিস্ট।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s